Wednesday, 8 August 2018

বিজেপির ভোটের রাজনীতি আর মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবনা - শিমুল টিকাদার



লিখেছেন : শিমুল টিকাদার

আমরা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ । আমাদের সম্প্রদায়ের বড়ো একটি অংশ অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাদের স্পর্শ করতে পারেনি এটা ঠিক । কিন্তু আমরা সবাই যে অশিক্ষিত বা অবুঝ তা কিন্তু নয় । হ্যা,  ঠিক এখানেই রাজনৈতিক দলগুলোর বড় সমস্যা । কোনটা গালগল্প, কোনটা টোপ আর কোনটা ভাওতাবাজি এটুকু বোঝার ক্ষমতা আমাদের অবশ্যই আছে ।

বিজেপি ২০০৩ সালে নাগরিকত্বের কালা আইন পাশ করেছে, সে কথা আমরা এখনও ভুলে যাইনি । ভুলব কি করে?  তীরবিদ্ধ হয়ে আছে যে । তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই বিলের কোনো বিরোধীতা করে নি।

একদিকে আমাদের অস্তিত্বের বুকে তীরবিদ্ধ হয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে , অন্যদিকে ধনুকের পেছনের লোকটি বলছে এই রক্তক্ষরণ আমরা বন্ধ করব আগে আমাদের ভোট দাও । কত আশা আর কি সহজ প্রতিশ্রুতি , কত শত মামা বাড়ির আবদার । ওদের ধারণা আমাদের স্মৃতি থেকে ২০০৩ সাল মুছে গেছে ।

ওরা আমাদের উদ্বাস্তু বাঙালির "প্রাণ " সুবোদ বিশ্বাস'কে কারাবন্দি করে রেখেছে । ১ বছর হয়ে গেছে আমাদের লোকগুলো ওদের কাছেই বারবার ছুটে গেছে একটু সাহায্যের জন্য । কিন্তু ওরা কোনো সবুজ সংকেত দেয় নি। দিনের পর দিন ওরা কোর্টে মিথ্যে মামলায় বন্দি "সুবোদ বিশ্বাস" এর জামিন এর বিরোধিতা করেছে । অথচ এই সুবোদ বিশ্বাস উদ্বাস্তুদের স্বার্থ রক্ষার আশায় বুক বেঁধে আসামে ওদের ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছে। তবুও আপনাদের "বিশ্বাসঘাতক" নাই বা বললাম, আপনারা সারাজীবন "ভগবান রামচন্দ্র" হয়েই বেঁচে থাকুন ।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর আপনারা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এই বিলের ভেতরে যে খেলা খেলার চেষ্টা করেছিলেন বাহিরে তা প্রকাশ করেননি । গণমাধ্যমে বলেছেন অন্য কথা। ঐ বিলে অনেক অসংগতি আমাদের নজরে এসেছে। যাই হোক, তারপরেও ঐ বিলের প্রতি আমরা ততটা আগ্রহ আপনাদের মধ্যে দেখিনি। বিরোধী দলগুলি নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা করছে এই অজুহাত দেখিয়ে আপনারা আমাদের কাছে যখন  ভোট প্রার্থনা করেন তখন সমুদ্রের বুকে শিশিরের কণা পড়লে সমুদ্রের যে অনুভূতি হয় আমাদের তাও হয় না । এটাই সত্যি .....!

আপনারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেন । আমরা আপনাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । তাই আমরা চাইলেই আমাদের ভাগ্য বদলাতে পারি না । আপনাদের এতসব অত্যাচার সহ্য করেও আপনাদের মতো লোকেদের মুখের দিকে তাকিয়ে আশায় বুক বেঁধে রাখি।


আমরা খুব অসহায়...!

Sunday, 18 March 2018

বিস্ময়


শিমুল টিকাদার

জিপ গাড়িটা থেমে গেল আমাদের অনুরোধেই।এখান থেকে দার্জিলিঙ মাত্র দেড় হাজার ফুট উপরে। গাড়ির ভেতর থেকেই আমরা চারপাশে তাকাতে লাগলাম । গাড়ির ইঞ্জিন তখনও শো শো শব্দ করছে। আমাদের ড্রাইভার গোর্খা ভাষায় কি যেন একটা বলে যাচ্ছে । আমরা ওর কথা বুঝতে পেরেছি এই ভান করে কৌতুহল নিয়ে মাথা নাড়তে থাকলাম । তারপর স্টিয়ারিং এ ধাক্কা দিতেই উত্তেজনা নিয়ে বলে উঠলাম "রুখ যাও"। সঙ্গে সঙ্গে  গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাক্ষেত্রে। যে দিকে দু'চোখ যায় শুধু উঁচু উঁচু পাহাড় আর পাহাড় । সকালের সূর্যের আলোয় পাহাড়ের গায়ে সবুজ কিংবা বেগুনি রশ্মি পড়েছে । ওদিকে শেষ পাহাড়ের মাথার উপর দৃশ্যমান হয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা'র চূড়া। মাথার উপরে স্বচ্ছ নীল আকাশ । বিশুদ্ধ অক্সিজেন। রাস্তার পাড় থেকে শুরু করে নিচের দিকে শেষ সীমানা পর্যন্ত সাজানো সারি সারি চা বাগান । আমি এবং আমার বন্ধু অমিত আর ড্যানি ততক্ষণে হারিয়ে গেছি অন্য এক ভূবনে । চারিদিকে নীরব । মৃদু ঠান্ডা হাওয়া বইছে...

Saturday, 3 February 2018

রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্ম চর্চা কেনো গুরুত্বহীন!


শিমুল টিকাদার

নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীন ভাবে চর্চা বা পালন করা মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই অধিকার যখন তার গন্ডি পেরিয়ে ন্যায় ও সাম্যের মানদন্ডের মাথায় চেপে বসে তখন তাকে বলা হয় অনুপ্রবেশকারী। ভারতীয় রাজনীতিতে "ধর্ম" কে এভাবে আমরা একটি অনুপ্রবেশকারী সত্ত্বা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি ।

বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত এই ধর্ম চর্চা হল একটি ব্যাক্তি-কেন্দ্রিক অধিকার যার লাভ-লোকসান এর দ্বায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করে না । এমনকি রাষ্ট্র এই ধর্ম প্রচারের কোনো দ্বায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে পারে না । কারন, এর ফলে রাষ্ট্রে ধর্মীয় ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। আদর্শ হিসেবে গনতন্ত্র হল এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে সব মানুষ সমান না হলেও এক অর্থে সমমর্যাদার অধিকারী। এরূপ সমাজে প্রত্যেকেই সমাজের অবিচ্ছেদ্য এবং একান্ত প্রয়োজনীয় অংশ।

দেশের সংবিধান এবং ধর্মগ্রন্থ  (যেকোনো) পারস্পরিক সাংঘর্ষিক। কেননা কোনো একটি ধর্মগ্রন্থের জীবন-দর্শন একটি নির্দিষ্ট সময়কে আবর্তন করে গড়ে ওঠে যা সময়ের বিবর্তনের ফলে অনেকটাই মানুষের চাহিদার বিরুদ্ধাচারন করে। অপরদিকে "সংবিধান" মানুষের উপর গভীর পর্যবেক্ষণ এর ভিত্তিতে গড়ে ওঠে । তাছাড়া সংবিধান মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে পরিবর্তনশীল - যার ফলে মানুষের জীবন আরও সহজ ও সচ্ছলতায় ভরে ওঠে। মানুষ হয়ে ওঠে স্বাধীন ।

"গনতন্ত্র" একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রক্রিয়া । "রাজনীতি" গণতন্ত্রের একটি অংশ মাত্র । গণতন্ত্র চর্চা বলতে রাজনীতি, অর্থনীতি,সমাজনীতি ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা, সমালোচনা, গবেষণা এবং এর যথাযথ প্রয়োগ কে বোঝায়। একটি রাষ্ট্রের সুসংহত গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের আচরন নিয়ন্ত্রণ করে তাকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম ।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্ম চর্চা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তাতে গণতন্ত্রের মান খুন্ন হয়েছে বা হচ্ছে বলে আমি মনে করি । বিগত দিনে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে একটু দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে, রাজনৈতিক দলগুলোর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির চেয়ে ধর্মীয় ও জাতিগত চাহিদা ও তত্ত্ব ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। আমরা আরও একটু বিস্তারিত আলোচনা করলে বুঝতে পারি, এই মুহূর্তে দেশে যত বেশী দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতিত হবেন তার থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পাবেন বা পাওয়ার চেষ্টা করবেন কংগ্রেস নেতৃত্ব ঠিক তেমনি ভারতবর্ষে এই মূহুর্তে হিন্দু ধর্মের মানুষ নির্যাতিত হলে তার থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করবেন বিজেপি নেতৃত্ব । সুতরাং কংগ্রেস এবং বিজেপি সুপ্রিমো তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে আলোচ্য ঘটনা ঘটলে এক পর্যায়ে উল্লসিত হন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । কেন্দ্রের শাসকদল নেতৃত্বের বয়স খুবই খুব বিধায় কংগ্রেস উন্নয়ন থেকে সাম্প্রদায়িক তত্ত্ব দিয়েই তাদের মোকাবিলা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তেমনি বিজেপিও ধর্মীয় বিভাজনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে চান।

এই মুহুর্তে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে আলোচ্য বিষয়ের ভিত্তিতেই যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যার্থতা ঢাকার অন্যতম যন্ত্র হতে যাচ্ছে ধর্মীয় এজেন্ডা । সম্প্রতি বিজেপির রাম নবমী,  তৃণমূলের পুরোহিত সম্মেলন কিংবা সিপিএমের মিটিং এ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনের মূল ধারা এবং এর গতিপথ কে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করবে বলে আমি মনে করি।

আজকে বিজেপির বিরুদ্ধে যে তীব্র সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ উঠেছে একটু গভীরে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে বিজেপির এই প্লাটফর্ম প্রায় ৭০ ভাগ তৈরী করে দিয়েছে পূর্বের শাসকদল। বিজেপি শুধু যায়গা বুঝে মসলা মাখানোর দ্বায়িত্ব টুকু নিয়েছে। একই ঘটনায় হেমন্ত-দীপঙ্কর-নিতাই এর থেকে আফযারুলের এর প্রতি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আজ বিজেপির হিন্দুত্ববাদ রাজনীতির প্লাটফর্মে পরিণত হযেছে। উভয়ের লক্ষ একটাই - ভোটব্যাংক । বর্তমান কেন্দ্রের বিজেপি থেকে পূর্বের শাসকদল কংগ্রেস কি খুব ভালো ছিল? তাও নয়!! আগে সবাই ফেজ টুপি পড়ত এখন সবাই কপালে তিলক চন্দন মাখছে। শুধুমাত্র দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে; গতানুগতিক ধারার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পরিশেষে --
ভারতবর্ষের রাজনীতিকে রাজনৈতিক মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার দ্বায়িত্ব সাধারণ জনগণকেই নিতে হবে। এর জন্য খুব বেশী শ্রম দিতে হবে তাও নয় । শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর প্ররোচনায় পা না বাড়িয়ে নিজেকে রাষ্ট্রের গঠনমূলক মূলক কাজ বা আলোচনায় নিয়োজিত করে সামনের দিকে বেগবান হওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ  - মূলত এটাই একজন আদর্শ সুনাগরিকের বৈশিষ্ট্য । এরফলে রাজনীতির পৃষ্ঠা থেকে মুছে যেতে পারে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু, দলিত সহ বিভিন্ন যন্ত্রনাদ্বায়ী শব্দগুলো। রাজনীতির অঙ্গনে ফিরে আসতে পারে স্বচ্ছতা ।

ধর্ম নয়! রাজনৈতিক প্রতিযোগীতা হবে উন্নয়ন ভিত্তিক। যা মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে।এবং রাজনৈতিক চর্চায় উঠে আসবে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি,সমাজনীতি ইত্যাদি । ---- আসুন আমরা দ্বায়িত্ব নেই, স্বপ্ন দেখি!!

Monday, 13 November 2017

শুধুই অন্ধকার


শিমুল টিকাদার

নিভে গেছে আলো
অন্ধকারে বিলীন হয়েছে জীবনের
শ্রেষ্ঠত্ব।

জীবনের সজীবতা, স্নিগ্ধতা
হয়েছে মরুভূমি।

ঠোঁট, চিবুক,গলা কেপে উঠতেই
দৃশ্যমান হৃদয়ের গভীর ক্ষত
যার চারপাশে শুধুই
অন্ধকার!!

Saturday, 28 October 2017

ব্যার্থ কবি


শিমুল টিকাদার

আতঙ্কের ভঙ্গিতে মাটিতে গড়িয়ে পড়া
ছেলেটিকে কবির তুলে ধরার চেষ্টা
চোখে চোখ পড়তেই গভীর উপলব্ধি
থমকে গেছে সময় ।

মলিন মুখ, অসহায় চাহনি, চোখের জল
কবির মনকে আহত করেছে
দু-হাতের আঙুল স্পর্শ করে
কান্নার কারন জানতে চাইলে -
আমাকে মারবেন না স্যার, আমাকে মারবেন না
বাতাসে কান্না-কাকুতি-মিনতির দীর্ঘশ্বাস ।

ওকে সেচ্ছাসেবীরা মেরে পূজা মণ্ডপ
থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে
ওর ময়লা জামা, সর্বশরীরে লেগে থাকা ধুলো
সবার অসস্তির কারণ
ওদের পরনের নতুন কাপড় ছেলেটিকে ছোঁয়নি
লাল-নীল-খয়েরী আলো ওকে স্পর্শ করেনি
এমনকি স্বয়ং দেবী দুর্গাও ওকে দেখে
আজ তুষ্ট হতে পারেননি ।

মাটির বুকে মাথা রেখে ঐ কান্নার
পেছনে এত নিষ্ঠুরতা জেনে
কবি-মন কেঁদে ওঠে
হৃদয়ের গহীনতম প্রদেশ আন্দোলিত হয়
বেজে ওঠে বিষাদের সুর
আর্তনাদে কম্পিত হয় প্রতিটি শিরা ও উপশিরা
ইচ্ছে হয় মাটিতে লুটায়ে
ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে
পরাজয়ের কান্না কাঁদতে ।

কবি অসহায় কবি রক্তাক্ত
বিনয়ী কবি আজ ক্ষুব্ধ
কিন্তু নিরুপায় ।

বাড়ি ফিরে চিরচেনা সেই লগ্ন
ঘরে শুয়ে থাকা অগণিত বইয়েরা দেয় ধ্বনি
দেয়ালের ছবির কন্ঠে বাজে শঙ্খ
কবির রক্তাক্ত হৃদয়ের গর্জনে
আজ কবিতা হবে অশ্রুসিক্ত।

কবি ভাবনার আড়ালে নিরুদ্দেশ
কবিতা আর লেখা হলো না
অসহায় ছেলেটির আর্তনাদের ভর
সাদা কাগজ বোধয় সইতে পারবে না
নীল রঙের কলমটিও আজ বড়ো অসহায়
ওর ভাবনার আড়ালে কবিতার গল্পরা
এত নির্দয় ছিল না ।

কবির চশমার কাঁচের দেয়ালের ওপারে
ঝাপসা আলো, অচেনা পৃথিবী
কল্পানায় তাড়া করে ছেলেটির মলিন মুখ
বেজে ওঠে সেই কন্ঠ -
আমাকে মারবেন না স্যার, আমাকে মারবেন না ।

কবি নীরব
কবি বাকরুদ্ধ
কবির কল্পনাতেই থমকে
কবিতার নিথর দেহ
কবি আজ ব্যার্থ ।

Thursday, 26 October 2017

আশ্চর্য এক সন্ধায়..

চন্দ্রিমা উদ্যানের সন্ধ্যা 

শিমুল টিকাদার

শ্রাবণের সন্ধ্যা ছিল সেদিন। চারিদিকে জোৎস্নার আভা। চন্দ্রিমা উদ্যান। জোৎস্নার আলোয় গা ভেসে যাচ্ছিল আমাদের । আমরা বেশ তৃপ্তি নিয়ে তা উপভোগ করেছিলাম । জলের দিকে পা হেলিয়ে গাঢ় খয়েরী রংয়ের ইটের দেয়ালের উপর ১.৫ ইঞ্চি দূরত্বে বসেছিলাম আমরা। মাথার ওপর গাছের পাতারা দুলছিল তখন। সেদিন সকালে খুব বৃষ্টি হয়েছিল । তাই বাতাস ছিল ঠান্ডা ; যা আমাদের মনকে শান্ত রেখেছিল । সেই আশ্চর্য এক সন্ধায় আমরা ছিলাম সম্পূর্ণ নীরব। মুখে কোন কথা না ঝরলেও পরস্পরের আত্মা ঠিকই গল্প/কথা জুড়ে দিয়েছিল (নন ভার্বাল কমিউনিকেশন) । আমরা প্রায়শই এভাবে একে অপরকে উপভোগ করতাম । লেকের ওপারে ল্যাম্প-পোস্টের সারি কিছুটা বিরক্তির কারন ছিল। সেই মুহূর্তে তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে থমকে যাচ্ছিলাম আমি । জোৎস্নার আলো জলে প্রতিফলিত হয়ে তোমার মুখটিকে গ্রাস করেছে। চন্দ্রমুখী!! গাছের পাতার ঝাপটায় বারবার অন্ধকার হয়ে এসেছিল সেই মুখ । আমি মন ভরে সেই দৃশ্য দেখেছিলাম । তুমি লাল-খয়েরীর উপর কালো ছাপা রঙের সালোয়ার পড়ে এসেছিলে সেদিন। তোমার এই ড্রেসটা আমার খুব প্রিয় ছিল, তুমি জানতে। তোমার মাথা ভরা কোঁকড়ানো চুল আমাকে আকৃষ্ট করত । চুলের কাচা গন্ধে আমি আন্দোলিত হতাম। সেদিনও হয়েছিলাম । শেষ মুহূর্তে আমার হাত স্পর্শ করে তুমি আমার নাম ধরে ডেকেছিলে, যখন আমি মৃদু বাতাসে লেকের জলের ছোট ছোট ঢেউ এবং জোৎস্নার আলোর গভীর মিতালী উপভোগে মগ্ন ছিলাম ।

Monday, 18 September 2017

স্মৃতি ফেরে চোখে


শিমুল টিকাদার

জীবন থমকে যায়
কত চেনা-অচেনা মানুষের ভিড়ে
নিজেকে মনে হয় বড় অপরাধী
রঙিন স্বপ্নে মন টানে না
পড়ে রই সাদা-কালো স্তব্ধ অ্যালবামে।

একটা সময় -
জীবন চলে জীবনের প্রয়োজনে
ঠিক চলে না, চালিয়ে নিতে হয়
অভ্যাসগুলো পালিয়ে বাঁচে
স্মৃতি ফেরে চোখে ।

সত্য বলতে বলব এটুকুই
আমরা জীবন যেভাবে দেখি
জীবন আমাদের সেভাবে দেখে না ।

প্রকৃতির টানে প্রকৃতির ডাকে - ৩



শিমুল টিকাদার 

ভাদ্র মাসের সন্ধ্যা । ঠিক সন্ধ্যা না; গোধূলি লগ্নের প্রাক-পর্ব চলছে। শান্ত মেজাজের এই মূহুর্তে সময় এবং পৃথিবী ভাবনার প্রকোষ্ঠে চলে আসে । পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমি । পায়ের নিচে সবুজ ঘাস আমাকে কাছে টেনে নেয়, আমার নাম ধরে ডাকে । আমার মৃদু শ্বাস স্পর্শ করে ওদের শরীর । ইচ্ছে করে ওদের শরীর থেকে এক মুঠো সবুজ আমার গায়ে মেখে নেই । 

দূর দিগন্তে দৃষ্টি চলে যায়; যেখানে আকাশের নীল মাটি স্পর্শ করেছে । আজ চোখের তারায় দৃষ্টি হারায় , পাখির ডানার ঝাপটায় মন আনচান করে ওঠে । আকাশে খানিকটা মেঘ করেছে । হালকা বাদামী আর লালচে রঙের মেঘ । এই মেঘে বৃষ্টি হয় না, তবে দেখায় অপূর্ব। কখনও বা গাঢ় লাল, হালকা হলুদ আবার চোখের পলকে লালের সঙ্গে খয়েরী মিশে সম্পূর্ণ অন্য রঙ। রঙের খেলা যিনি খেলছেন তিনি মনে হয় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন । রঙের এই বৈচিত্র্যতা জীবনের গল্পগুলোকে ছুঁয়ে দিয়ে যায় । অবশেষে রঙের সাথে মনের মিলন হয় । দৃশ্যমান হয় বৈচিত্র্যময় পৃথিবী........!!

Tuesday, 8 August 2017

প্রকৃতির টানে প্রকৃতির ডাকে - ২



শিমুল টিকাদার

ধরে নিলাম নদী'টি সম্পূর্ণ স্থির । নদীতে যে পরিমাণ জল থাকার কথা তা নেই বললেই চলে । এ এক সম্পূর্ণ স্রোতহীন, ঢেউহীন এক রুক্ষ নদীর গল্প ।

এ নদীর গায়ে কখনও হাওয়া লাগে না । গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্ত কিংবা হেমন্ত কেমন হয় তাও সে জানে না । সেই শূন্য নদীর তীরে দাঁড়িয়ে কেউ তার বুকে একটা ঢিল ছুঁড়েও মারে না । সে মরুভূমির দেশে না জন্মেও যেন মরুভূমিতেই বাস করছে । শুধুমাত্র কে যেন প্রতিদিন এসে তার বুক থেকে রক্ত চুষে নেয় । কিন্তু কে যে সে "রক্তচুষী" তা সে জানে না ; শুধু জানে সারাদিনের বিরাট একটা সময় জুড়ে সে তার কাছে প্রচন্ড তাপ-দাহ নিয়ে ছুটে আসে, তাকে খুব যন্ত্রণা দেয় । সারাদিনের সেই যন্ত্রণার আচ্ তার গায়ে রাতেও লেগে থাকে সাথে "ভয়ার্ত অপেক্ষা" আবার একটু পরেই সে আসবে । কিন্তু এভাবে একদিন সেই রক্তচুষীই (সূর্য) তার জীবনে বড়ো আপন হয়ে ওঠে এই ভেবে যে  , কেউ তো একজন আছে যে তার কথা মনে রেখে প্রতিদিন ছুটে চলে আসে । হোক না সে "রক্তচুষী" ।  এভাবেই তার সপ্নহীন দিনগুলো কেটে যায় । জীবনের নতুনত্ব বলতে কিছু আছে বা বেঁচে থাকার আরও কোন মায়াবী কিংবা উচ্ছ্বাসে ভরা কোনো  স্বার্থক মাধ্যম আছে কিনা তা সে কখনও জানতেই পারে না ।

এই কাল্পনিক নদীটির এতটাই দুর্ভাগ্য যে সে কখনও শিল্পীর তুলিতেও ধরা পড়ে নি ।

কিন্তু একদিন সব ওলট-পালট হয়ে গেল । দূর দেশ থেকে হঠাৎ আজ মেঘেদের দল ছুটে এল । আকাশে আজ সাদা-কালো রঙের মেঘমালা । ওরা এদিকে ওদিকে ছুটে বেড়ায়  , খেলা করে । এই দেখে আজ রক্তচুষী'টা  (সূর্য) কোথায় যে পালিয়ে গেল তা আর ঠাহর হল না । ধীরে ধীরে বজ্রপাতের ঝলকানিতে চারিদিকে কম্পিত হতে লাগল , আজ কোথা হতে যে এত হাওয়া এসে নদীটির বুকে ছোট ছোট ঢেউ খেলতে লাগল তা ভাবতেই নদীটির শূন্য হৃদয় উচ্ছলতায় ভরে উঠল ।  একি আসন্ন নতুন কোন বিপদ নাকি বেঁচে থাকার নতুন অঙ্গীকার ; নদীটি একথাটি বারবার ভাবছে , আর তার এই একপ্রকার দুঃসময় টাই হয়ত পার করছে । সে আজ নির্বাক । কিন্তু না !!  একটু পরেই ঝিরি-ঝিরি বৃষ্টিতে তার জ্বলন্ত দেহ শীতল হতে লাগল । আজ এক নতুন অনুভূতি আজ আর রক্তচুষী নেই । একটা সময় নদীর বুকে জলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল । জলের স্পর্শে নদীর পাড়ে নতুন বৃক্ষ-রাজি তাদের আবেশ ছড়ালো  , জেলেরা এল মাছ ধরতে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলো নদীর বুকে মেতে উঠল উল্লাসে । একটা সময় সেই রক্তচুষীও  (সূর্য) এল । কিন্তু তার প্রতি আজ আর বিরক্তির কারণ নেই । নদীটির জীবনে তার যতটুকু থাকার প্রয়োজন ঠিক ততটুকু থাকলেই চলবে ।

কাল্পনিক এই নদীটি আজ আর একা নয়  ; সে আজ সবাইকে নিয়ে সেজেছে এক নতুন বেশে । আজ তার বুক ভরা জল, তার দুই পাড়ে শুয়ে আছে অসংখ্য লতা-পাতা আর গুল্ম , দাড়িয়ে আছে বৃক্ষ-রাজি । সেই বৃক্ষের ডালে বসে কোন এক অচীন পাখি তাকে ডাকে  - ও নদী তোর নাম কি ? আবার কখনও মাঝিরা শোনায় গান , জেলেরা মেতে ওঠে গল্পে ..... তাই শুনে নদীটি মুগ্ধ হয় । আর এভাবেই নদীটির জীবনের একঘেঁয়েমী দূর হয়ে সে তার জীবনের নতুন স্বাদ খুঁজে পায় , সে আবিস্কার করে বেঁচে থাকার নতুন ভাষা ।

যে শিল্পীদের রং-তুলিতে এতদিন তার স্থান হয়নি এখন সেই শিল্পীরাও ছুটে চলে আসে । নদীটির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তারা ; তার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয় । এই শিল্পীরাই তখন তাদের রং-তুলিতে আবিষ্কার করল এমন একটি নদী যে নদীটি ধুঁকে ধুঁকে একসময় মরতে বসেছিল কিন্তু আজ কালের নিয়মে সে তার পাখা মেলেছে,চারিদিকে তার আবেশ ছড়িয়েছে, সে কোন কৃত্রিম রং আর রং-তুলিতে নয় বরং সে আজ সেজেছে প্রকৃতির আপন নিয়মে , তার আপন রঙে ।

ঠিক তেমনি  -
মানুষের জীবনের সব চাওয়াগুলো পূর্ণ হতে থাকলে একটা সময় একঘেঁয়েমী চলে আসে  ; তা হয়ত আমরা বুঝতে পারি না । মনে হয় যা চেয়েছিলাম তাই তো পেয়েছি । কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে জীবনের নতুনত্ব বা জীবনের ভিন্ন কোন স্বাদ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না । গল্পের কাল্পনিক সেই  নদীর জীবনে প্রকৃতি যেভাবে হঠাৎ একদিন  বজ্রপাতের সৃষ্টি করে তার জীবনের আমূল পরিবর্তন এনেছিল ঠিক তেমনি আমাদের মানুষের  জীবনে এরকম হঠাৎ হঠাৎ বিষাদের ঘনঘটা চলে আসে যা হয়ত আমাদের জীবনকে এলোমেলো করে দেয় । কিন্তু একটা সময় বেঁচে থাকার তাগিদে পুরানো সেই কষ্টেভরা  দিনগুলো ভুলে গিয়ে আমরা আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখি, জীবন'টাকে  নতুন করে সাজিয়ে নেই । দূর হয় একঘেঁয়েমী , খুঁজে পাই জীবনের নতুন স্বাদ । 

আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ (সংক্ষিপ্ত) - রেনে ডেকার্ত [Rene Descartes]




রেনে ডেকার্ত  (১৫৯৬-১৬৫০ খ্রিঃ) :
ফ্রান্সের তুরাইন প্রদেশে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে রেনে ডেকার্ত জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান দার্শনিক এবং গণিতজ্ঞ । ডেকার্ত জেসুইট নামক একটি বিদ্যালয়ে প্রাচীন ভাষা, স্কলাস্টিক দর্শন এবং গনিত শিক্ষা লাভ করেন । তিনি গনিত শাস্ত্রের প্রতি খুবই আকৃষ্ট ছিলেন । ডেকার্ত ছিলেন একজন আধুনিক বুদ্ধিবাদী দার্শনিক । তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম - Meditations.

রেনে ডেকার্তের আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ (সংক্ষিপ্ত) :
দেকার্ত দর্শনের ক্ষেত্রে যথার্থ ও নিঃসন্দিগ্ধ জ্ঞান লাভ করার উদ্দেশ্যে প্রথমে জগতের সমস্ত ব্যাক্তি বা বস্তুর প্রতি সন্দেহ বা সংশয় প্রকাশ করতে থাকেন । কিন্তু পরে তিনি উপলব্ধি করেন যে জগতের সমস্ত ব্যাক্তি বা বস্তুর প্রতি সংশয় বা সন্দেহ প্রকাশ করা গেলেও সন্দেহকারী বা সংশয় কর্তার অস্তিত্বে সন্দেহ বা সংশয় প্রকাশ করা যায় না । কেননা সন্দেহে বা সংশয় প্রকাশ করার জন্য সন্দেহকারী বা সংশয় কর্তাকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে । এভাবেই দেকার্ত আমি তথা আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন ।

এবিষয়ে তার সুবিখ্যাত উক্তি হল , Cogito-ergo-sum বা "I think, therefore, I am" বা আমি চিন্তা করি অতএব আমি আছি ।

Sunday, 23 July 2017

Why are not the Intellectuals playing their role on the issue of KP Ramanunni & his death threat ?


Shimul Tikadar

Sri KP Ramanunni is a famous novelist & short story writer from kerala, India. He has got different types of awards & recognitions for his contributions towards Malayalam Literature.  He got kerala Sahitya Academy award for his first novel "Sofi Puaranja Katha". His ingenious personality & creations attracts all the common people of kerala. With-out doubt he is an estimable person to all the Indians.

Recently Mr. KP Ramanunni received a letter about 7 days ago at his residence. The letter allegedly warned Mr Ramanunni that his right arm & left leg would be chopped off if he do not  convert to Islam within six months. And the culprit behind the letter also warned that he would meet the same fate as that of Professor TJ Joseph whose right arm was cut off by the members of Muslim Community.

Now the questions of mine (Shimul Tikadar)  are that-
1. Where are those secularists who strongly had supported Poet Mr. Srijato Bandyopadhyay ?
2. Where are Mr. Kanaya Kumar, Mr. Omar Abdullah & their JNU who talk about the freedom of speech ?
3. Where are those intellectuals Who supported terrorists like Kashab & Menon ?

I just want to know that -
Why are not the Intellectuals using a single word for Mr. Ramanunni ? What's the problem ? is it seems a very simple issue ? Why do they not protest against the Muslim fundamentalists ?

Today , We all are searching Mrs Aparna Sen who was present at the meeting in Kolkata against Hinduttabad (recently). Now what does she think in this situation  (Ramanunni's death threat) ? Or What are we shout in for ?

Answer me -
Is secular sympathy only for a community ?
If the answer is "yes", then I hate the "Secularism".

Sunday, 2 July 2017

মতুয়ারত্ন ড. বিরাট কুমার বৈরাগ্য এর সংক্ষিপ্ত জীবনী


মতুয়ারত্ন ড. বিরাট কুমার বৈরাগ্য 

লেখক - শিমুল টিকাদার

বিশিষ্ট খ্যাতিসম্পন্য লেখক ও গবেষক ড. বিরাট কুমার বৈরাগ্য বঙ্গীয় সমাজের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র । তিনি সকলের কাছে একজন বিশিষ্ট সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিত । তার কর্মগুন , কর্মস্পৃহা , কাজের প্রতি উদ্যম,  অক্লান্ত পরিশ্রম এর জন্য তিনি ইতিমধ্যেই সমাজের যুবক সম্প্রদায়ের নিকট আদর্শে পরিনত হয়েছেন । অনুরূপ তিনি সামাজিক আন্দোলন এবং নেতৃত্ব গুনের জন্য সমাজের সর্বস্তরে হয়েছেন সমাদৃত।

ড. বিরাট বৈরাগ্য ২৫ শে জুন ১৯৫৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় মাঝদিয়া নামক একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবা ধীরেন্দ্রনাথ বৈরাগ্য ছিলেন একজন মতুয়া গোসাই । ধীরেন্দ্রনাথ গোসাই ১৯৮১-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বারুনীর ৭ দিন ঠাকুরবাড়ির ( ঠাকুরনগর) মন্দিরে পূজারী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন । তিনি পি. আর. ঠাকুরের সমাজ আন্দোলনের অন্যতম একজন সহযোগী ছিলেন । ড. বৈরাগ্য ছোটবেলায় তার বাবার কাঁধে উঠে বিভিন্ন মতুয়া সম্মেলনে যোগ দিতেন । তিনি তখন থেকেই তার বাবাকে খুব জানার এবং অনুসরন করার চেষ্টা করতেন । এভাবেই মূলত মতুয়া ধর্ম দর্শন এবং সমাজ আন্দোলনের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন ।

ড. বিরাট বৈরাগ্য এর ছাত্র জীবন ছিল বৈচিত্র্যময় । দারিদ্র সীমার নীচে থেকে পড়াশোনা করে কিভাবে জীবনে ঘুরে দাড়ানো যায় তিনি নিজে তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ । তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র । পড়াশোনার প্রতি ছিল তার গভীর মনঃসংযোগ । ড. বৈরাগ্য ছাত্র জীবন থেকেই ছিলেন একজন স্পষ্টভাষী এবং প্রতিবাদী ব্যাক্তিত্ব। তিনি শিক্ষকদের নিকট খুবই স্নেহধন্য ছিলেন । তিনি তার ভাই-বোনের পড়াশোনার  জন্য নির্লস ভাবে চেষ্টা করে গেছেন ; যার ফলশ্রুতিতে তার বোন অধ্যপিকা ড. পুষ্প বৈরাগ্য এর জন্য আজ তিনি গর্বিত । অধ্যাপিকা ড. পুষ্প বৈরাগ্য একজন অত্যান্ত সুনামধন্য গবেষক এবং সুবক্তা । তিনি তার দাদা ড. বিরাট বৈরাগ্য এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে সমাজ সেবার কাজে নিযুক্ত করেছেন । বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষদের সাথে নিয়ে রাজপথে তিনি  নেতৃত্ব স্তরের ভূমিকা পালন করেন ।

১৯৭৫ সালে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি একটি সরকারি হাসপাতালে হেলথ এসিট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন । ঠিক এর পর থেকে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবনের নতুন অধ্যায়। বি. এ. ক্লাসের পড়াশোনা, চাকুরী, ভাই-বোনের প্রতি যত্ন , পারিবারিক দায়দায়িত্ব , দারিদ্রতা সবমিলিয়ে তিনি ঐ দিনগুলোতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন । এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি । তিনি ১৯৭৯ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. এ. পড়ার সুযোগ পান এবং সেখানেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন । অতঃপর তিনি দীর্ঘ ৯ বছর মতুয়া দর্শন এর উপর গবেষণা করে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ. ডি. ডিগ্রী লাভ করেন । ড. বিরাট বৈরাগ্য এর কর্ম জীবন ছিল অত্যান্ত বৈচিত্র্যময়  - তিনি ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় হেলথ এসিট্যান্ট হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন । তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ বিভাগে দীর্ঘ ৮ বছর যাবত গুরুত্বপূর্ন পদে চাকুরী করেছেন । এরপর তিনি হবিবপুর হাইস্কুল(উচ্চ মাধ্যমিক) এবং আরবাদি নেতাজী বিদ্যাপীঠ নামক পরপর দুটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন । স্কুল পরিচালনায় প্রশাসনিক স্তরে তার জ্ঞান, দক্ষতা এবং ব্যাবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো । স্কুলের পরিকাঠামো, ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বিকাশ এবং অবিভাবকদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি যে নীতিমালা গ্রহন করেছিলেন তার জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন । অতঃপর প্রখ্যাত গবেষক ও লেখক ড. বিরাট বৈরাগ্য অত্যান্ত সুনামের সঙ্গে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ বছর অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মতুয়ারত্ন ড. বিরাট বৈরাগ্য কে বলা হয় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রাণ । বিগত কয়েক দশক ধরে তার হাত ধরেই মূলত মতুয়া ধর্ম দর্শন সারা ভারতবর্ষ সহ বহির্বিশ্বে বৃহৎ পরিসরে বিস্তার লাভ করেছে । ১৯৮৬ সালে পি. আর. ঠাকুরের নেতৃত্বে যে "মতুয়া মহাসংঘ" তৈরী হয় সেখানে ড. বৈরাগ্য ছাত্র যুব সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । এরপর এসিট্যান্ট জেনারেল এবং সর্বশেষ বর্তমানে তিনি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্বরত আছেন । তিনি দরিদ্র নিন্ম-বর্নীয় মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তার জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যায় করেছেন । দরিদ্র দিনমজুর মানুষের দুঃখ-কষ্ট , যন্ত্রণা তিনি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন । বঞ্চিত মানুষের আর্তনাদ সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে মতুয়া মহাসংঘের সহযোগিতা এবং ড. বিরাট বৈরাগ্য এর নেতৃত্বে ভারতবর্ষের বিভিন্ন যায়গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মতুয়া আন্দোলন। বিগত দিনের আসাম ভবনে ডেপুটেশন, নাগরিকত্ব আন্দোলনে অনশন , মেদিনীপুর এবং বারাসাত এর ডি. এম. অফিসে ডেপুটেশন সহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ন কর্মসূচি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।

ড. বিরাট বৈরাগ্য পূর্ববঙ্গ থেকে ভারতবর্ষে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ । তিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও নিজেকে উদ্বাস্তু সন্তান পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন । ২০০৫ সালে ভারতের নাগপুরে উদ্বাস্তু আন্দোলনের যে নব-জাগরন ঘটেছিল ড. বিরাট বৈরাগ্য সেখানে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছিলেন । এরপরে  দিল্লীর যন্তর মন্তর , ৫ই আগস্ট কোলকাতা ধর্মতলা  , কোলকাতা ওয়াই চ্যানেল সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তিনি উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতৃত্বস্তরের ভূমিকা পালন করেন । "বর্তমানে নমঃশূদ্র বিকাশ পরিষদ" নামক একটি সংগঠনের সামাজিক আন্দোলনের সাথেও তিনি যুক্ত।

তিনি অপ্রতিরোধ্য । ড. বিরাট বৈরাগ্য সামাজিক আন্দোলন করতে গিয়ে শাসক গোষ্ঠীর অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন । ২০১৪ সালে ঠাকুরনগর উদ্বাস্তু আন্দোলন পক্ষে যে অনশন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল ড. বিরাট বৈরাগ্য ছিলেন তার অন্যতম প্রধান ভূমিকায় এবং পরবর্তীতে উদ্বাস্তুদের ৬ দফা দাবি নিয়ে যে রেল অবরোধ হয়েছিল তার নেতৃত্বদাতা হিসেবে সংগ্রামী জননায়ক ড. বিরাট বৈরাগ্য শাসক গোষ্ঠীর নিকট হতে প্রশাসনিক হেনস্থা এবং মামলা সহ জঘন্য চক্রান্তের স্বীকার হয়েছিলেন যা তাকে এখনও ভোগ করতে হচ্ছে ।  কিন্তু এত চক্রান্ত সত্বেও তাকে এক মুহূর্তের জন্যও দমিয়ে   রাখা সম্ভব হয়নি । শক্ত হাতে সমাজের হাল ধরে তিনি দরিদ্র-নিপীড়িত মানুষের বেদনাগাঁথা কষ্টের কথা সর্বস্তরে পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছেন । পরাজয় তাকে কখনও স্পর্শ করতে পারেনি।

মতুয়ারত্ন ড. বিরাট বৈরাগ্য পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ধর্ম দর্শন মানুষের সমাজ জীবনে প্রয়োগ করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন যাবত প্রচারের কাজ করছেন । শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা ও সমাজ নীতি সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন । তিনি কবি গানের প্রচার , প্রসার এবং সার্বিক উন্নতির জন্য প্রচুর অর্থ ,শ্রম এবং সময় ব্যায় করেছেন। সম্প্রতি বৈপুরা এবং বেথুর নামে দুটি গ্রামে মন্দির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে  ১২,০০০ ও ১০,০০০ টাকা দান করেছেন ।  তিনি বাংলাদেশের ওড়াকান্দি গুরুচাঁদ ঠাকুর এবং সত্যভামার মন্দির নির্মাণ করার উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ্য টাকা দান করেছেন । ৯ ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ সালে তিনি গুরুচাঁদ এসোসিয়েশন সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ডে ৬ লক্ষ টাকা দান করেছেন । ড. বিরাট বৈরাগ্য এই পর্যন্ত সর্বমোট ৩২ জন অনাথ শিশুর ভরন-পোষন এবং শিক্ষার দ্বায়িত্ব নিয়েছেন ; যারা সামাজে আজ প্রতিষ্ঠিত । এছাড়াও তিনি দরিদ্র দিনমজুর মানুষের নিকট বিপদে-আপদে ছুটে যান  ; তাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র,  বাসস্থান, শিক্ষা,  চিকিৎসা নিশ্চিত করেন সম্পূর্ণ নিস্বার্থভাবে । তার এই মহৎ কাজের জন্য অনেকেই তাকে "দানবীর" নামে অবিহিত করে থাকেন।

মতুয়া দর্শন প্রচারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ড. বিরাট বৈরাগ্য ১৯৭৯ সাল থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন । আনন্দবাজার, যুগশঙ্খ, গণশক্তি সহ রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে । মতুয়ারত্ন ড. বিরাট বৈরাগ্য রচিত গবেষণাধর্মী  "মতুয়া সাহিত্য পরিক্রমা" বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে । মতুয়া দর্শন ভিত্তিক এই বইটিতে ফুটে উঠেছে দরিদ্র-নিপীড়িত মানুষের আত্মকথা এবং প্রাধান্য পেয়েছে গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা নীতি । তাছাড়া ভারতবর্ষের ব্রাম্মন্যবাদী চক্রান্তের যে নির্মম ইতিহাস তার একটি সম্যক প্রামাণ্য চিত্র এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে । এই মূল্যবান গ্রন্থটি বের হওয়ার পর সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল , সমাদৃত হয়েছিল শিল্পী ও সাহিত্য মহলে । তাছাড়াও "মতুয়া সাহিত্য পরিক্রমা" নামক এই গ্রন্থটি ভারতের প্রতিটা রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে যা সাহিত্য ইতিহাসে বিরল।

মতুয়ারত্ন ড. বিরাট বৈরাগ্য তার কৃতিত্বের জন্য দেশ এবং বিদেশ থেকে একাধিক পুরস্কার ও সন্মানে ভূষিত হন । তিনি সর্বোচ্চ সম্মান ডি. লিট. ডিগ্রী লাভ করেন ২০০০ সালে । তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল বিরেন জে. শাহ্ তার হাতে ডি. লিট. এর সন্মাননা পত্র তুলে দিয়ে তাকে সম্বোর্ধিত করেন।
এছাড়াও তিনি  -
👉 "মতুয়া মিশন বাংলাদেশ" থেকে ২০০৮ সালে "মতুয়া রত্ন" উপাধি পেয়েছেন ।
👉 ২০১২ সালে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার কতৃক বিশেষ সম্বর্ধনা পেয়েছেন ।
👉 কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "আম্বেদকর পুরষ্কার" প্রাপ্তি ।
👉 মিশর, দুবাই , বাংলাদেশ থেকে বিশেষ সন্মান ও সম্বর্ধনা পেয়েছন ।
👉তিনি এই পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে সর্বমোট ৮৬  টি মানপত্র অর্জন করেছেন।

সুখ্যাত মতুয়ারত্ন ড. বিরাট বৈরাগ্য একজন মানবতাবাদী সমাজ সেবক । তিনি একজন সুবক্তা ; তার প্রতিবাদী বজ্রকন্ঠে শোষকের চেতনা জাগ্রত হয় ।  মাটি এবং মানুষের সাথে তার রয়েছে আত্মিক সম্পর্ক । তার ব্যাক্তিত্বের চৌকষত্ব সবাইকে মুগ্ধ করে । তিনি একজন অত্যান্ত সুদর্শন এবং সুপুরুষ । ড. বৈরাগ্য এর বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর যখন আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয় তখন সবাই তা মুগ্ধ হৃদয়ে শ্রবন করেন।

মতুয়ারত্ন ড. বিরাট বৈরাগ্য তার কৃতকর্মের জন্য সারাজীবন আমাদের নিকট চির-স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

প্রকৃতির টানে প্রকৃতির ডাকে - ১


শিমুল টিকাদার

নিজেকে আবিষ্কার করেছিলাম একটি রৌদ্রজ্জ্বল দ্বীপে । "মায়াদ্বীপ"। উপরে নীল আকাশ, কোন খুঁত নেই । সূর্যটা আকাশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে । পৃথিবীকে আলোকিত করেছে সে । মায়াদ্বীপের প্রতিটি কোনে এই আঁলোর প্রবেশ । আঁলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে দ্বীপের সৌন্দর্য ।

এই দ্বীপে আজ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে আমার আপন প্রাণ । মায়াদ্বীপ তার সৌন্দর্য দিয়ে আবদ্ধ করেছে আমাকে । আমার প্রাণে মিলিয়েছে তার আপন প্রাণ । দ্বীপের চিকচিকে বালি , পাথর, শামুক, ঝিনুক, মুক্ত কিংবা নারিকেল গাছ এই সবকিছু যেন আমার দেহের এক একটি অঙ্গে পরিণত হয়েছে । এখন আমিই মায়াদ্বীপ ।

হ্যা, আমিই সেই মায়াদ্বীপ । নিজেকে উপলব্ধি করার মাঝে কখন যে সূর্যটা হেলে পড়েছে ঠিক ঠাহর হল না । দূর সমুদ্রের শেষ সীমানায় যেখানে আকাশ আর সমুদ্র গভীর মিতালি স্থাপন করেছে সূর্যটা রক্তবর্ণ রূপে ঠিক সেখানেই উপস্থিত হয়েছে । এখন সূর্যাস্ত । সুবিশাল সমুদ্র, অনন্ত আকাশ এবং উত্তপ্ত সূর্য ক্ষণিকের জন্য যেন নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেছে; যার একমাত্র সাক্ষী আমি মায়াদ্বীপ ।

গোধূলি লগ্ন । এই সময় আমি বরাবরই বিচ্ছিন্নতায় ভুগি ।  অনেকটা না পাওয়া বেদনার এক অব্যক্ত অনূভুতি। কিসের যে অভাব তা হৃদয় দিয়ে অনুমান করা যায় না কিন্তু আমার হৃৎস্পন্দনে ধ্বনিত হয় সেই অভাব। হাহাকার। চারিদিক থেকে ছুটে আসে দমকা হাওয়া;  কিন্তু সে হাওয়া আমাকে স্পর্শ করে না ।চোখে,ঠোঁটে,মুখে ভেসে ওঠে উৎকন্ঠার অবয়ব। আমি ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে রই ।

তবুও একটি চন্দ্রিমা রাতের অপেক্ষায় আমি এক জীবন্ত মায়াদ্বীপ । 

Saturday, 1 July 2017

বনগাঁ-শিয়ালদহ ট্রেন ৩৩৮১৪ (লোকাল), ভোর ৪:৩৯ মিনিট ।

শিমুল টিকাদার

খুব ভোর বেলা । পৃথিবী তখন শান্ত । পাখিরও ঘুম ভাঙেনি । ল্যাম্প-পোস্টের আঁলোর নিচে কুকুরগুলিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় । সারারাত জেগে ওরাও এখন ক্লান্ত । আঁধার আলোর সন্ধিক্ষণে আমি হেটে চলেছি স্টেশনের উদ্দেশ্যে । দেহে কোন গ্লানি নেই,  নেই কোন বিস্বাদ,  সুখটাও ঠিক ধরা দেয় না । অবচেতন মনে জনমানব-হীন একটি রাস্তায় আমি ছুটে চলেছি। মাঝে মধ্যে সাইকেলের বেলে আমার চেতন ফিরে আসে,  এক পলক তাকিয়ে আবারও দৃষ্টি ফেরে মাটির দিকে ।

ভোর ৪:২৮ মিনিট । ঠাকুরনগর স্টেশনের টিকেট কাউন্টারে পৌছালাম । দুজন বয়স্ক মানুষ পাখার নিচে ঘুমিয়ে আছে । ওরা পাগল । হ্যা! সভ্য সমাজের সাথে ওদের কোন সম্পর্ক নেই । ছেড়া কাঁথায় ঢাকা ওদের শরীর,  ওদিকে পা আর এদিকে মুখটা বাহিরে । ঘুমের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে মশার কামড়ে ওদের হুশ ফেরে না । কতদিন যে ওরা চুল কাটে নি দাড়ি কামায় নি,  তার হিসেব কে বা রাখে ।  কিছু সময়ের জন্য আমি দাঁড়িয়ে ওদের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে আবিষ্কার করেছিলাম এক অন্য জীবনের গল্প - যেখানে এই মানুষগুলোর জন্ম-মৃত্যুর কোন জ্বালা নেই, সুখ-দুঃখের কোন অনুভূতি নেই ; আছে ক্ষুদার তীব্র  যন্ত্রণা, আছে শুধু অবচেতন মনে একটি দিন একটি রাত পাড়ি দেয়ার সামান্য তৃষ্ণা।

৪:৩৭ মিনিট । আমি ২ নং প্লাটফর্মে দাড়িয়ে । ট্রেন এখানে পৌছাতে ঠিক ২ মিনিট বাকি । আকাশ মেঘলা নয়, আবার একদম নীলও নয় । স্টেশনের দু পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালাগুলোর ভঙ্গিমা ঐ শুয়ে থাকা মানুষগুলোর মতোই মলিন । তেমন হাওয়া বইছে না কিন্তু  শীতল আবহাওয়া । শুনেছি এই সময় পৃথিবীতে কসমিক এনার্জি নেমে আসে , কিন্তু আমার তা ঠাহর হল না । মনে হল যেন ঘুম ঘুম চোখে মাথার মধ্যে হাত পা গুছিয়ে আমি শুয়ে আছি ।

ট্রেনের(লোকাল) শেষ কামরায় উঠে মাঝ বরাবর একটি সিটের চতুর্থ নং যাত্রী হলাম । এই সিটে যিনি বসেন তিনি মনে হয় পৃথিবীর বড়ো কোন এক অপরাধী । পাশের তিন জনের সঙ্গে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ করে এই চতুর্থ নং যাত্রীকে তার সিটে টিকে থাকতে হয় । তাও ভালো এই ভোরে অন্তত একটু ঘুমের ঝিমটি দিতে পারলেই শান্তি । কিন্তু মূহুর্তেই পরিবেশ বদলে গেলো, আমি হেলে থাকা মেরুদন্ড সোজা করে চারিদিকে তাকাতে লাগলাম । চারিদিকে কোলাহল আর ঘার্মাক্ত গন্ধ ।

ঝাপসা চোখ পরিষ্কার হয়ে গেল। আমার চারিদিকে মানুষ গিজগিজ করছে যাদের এক তৃতীয়াংশ মহিলা । ওদের পড়নে পুরানো ছেড়া শাড়ি । আর পুরুষদের পরনে ঢিলেঢালা ময়লা শার্ট । ওদের প্রায় প্রত্যেকের হাতে ফুলের ব্যাগ । এই ট্রেনে এলিট শ্রেণীর মানুষের যাতায়াত কম;  দরিদ্র দিনমজুর মানুষের সংখ্যাই বেশী । ওদের ময়লা, পুরানো এবং ঘর্মাক্ত  কাপড়ের গন্ধে ফুলের গন্ধ হার মেনে গেছে ।

ওরা শ্রমজীবী । কেউ কোলকাতায় ফুল বিক্রি করে কেউবা জন বিক্রি করে । এই মানুষগুলোর চেহারা গড়ন দেখলে বোঝা যায় ওরা নিন্ম-বর্নীয় মানুষ । শিক্ষার আলো এখনও ওদের ঘরে পরিপূর্ণতা পায়নি । কাল থেকে কালান্তরে গায়ে খেটে ওরা জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে । আজ যারা আমার সহযাত্রী তাদেরই মতুয়া দলে ডঙ্কা কাসর হাতে দেখা যায় । আমি তখন কল্পনায় দেখি ওদের ঘার্মাক্ত দেহ , ওদের ভ্র কুণ্চিত দৃষ্টি,  ওদের কপোলে ঝিরি-ঝিরি ঘাম যা কর্ন ছুঁয়ে শেষপর্যন্ত মাটি স্পর্শ করে । তবুও ওরা ক্লান্ত হয় না । এই দৃশ্য সবাইকে জানান দেয় শাসকের শোষণ নিপীড়ন ভেদ করে আমরাও আসছি ।

৬ টা স্টেশন অতিক্রম করেছি । ট্রেনে দিনের আঁলো প্রবেশ করেছে । সূর্যের আঁলো এবং চোখের আঁলোর দ্যুতি যেন গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেছে । বিভিন্ন স্টেশন থেকে উঠে আসা এই কামরার যাত্রীদের একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বসুলভ আচরন দেখে আমি মুগ্ধ হই । ওরা যে কত দিনের কত কালের বন্ধু তার কোন হিসাব নেই । ওরা এই কামরার নিত্যদিনের যাত্রী । ওরা একই সুতায় গাঁথা একটি পরিবার । সাধারনত এলিট শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এই ব্যাপারটা খুব কম দেখা যায় ।

আমার চোখে মুখে এখন আর ঘুমের কোন চিহ্ন নেই; কিছুক্ষণ আগের ঘামের দুর্গন্ধটাও আমার কাছে মিষ্টি গন্ধে পরিনত হয়েছে । এখন আমি ওদেরই একজন । ওদিকে তাকিয়ে দেখি একটি মেয়ে জানালার বাহিরে বৃষ্টি দেখছে । মাঝে মাঝে বাহিরে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে বিধায় ওর মা রেগে যাচ্ছে; কিন্তু সেদিকে মেয়েটির খেয়াল নেই । ওর নাম চুমকি, বয়স-৫ । মা কোলকাতা গৃহপরিচারিকার কাজ করে,  চুমকি অনেক ছোট তাই মায়ের সঙ্গেই থাকে । এই কামরার সকলেই ওকে বেশ আদরের চোখে দেখে । ----- ও পাশের একজন মধ্যে বয়স্ক মহিলা হেডফোনে গান শুনছে;  এই দেখে অন্য সকলে মিটমিট করে হাসছে । কে জানে  ? হেডফোনে গান শোনা হয়ত দরিদ্র শ্রেনী মানুষের অতিরিক্ত বিলাসিতা তাই এই হাসির কারন ।

একটু পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই -- কিছু লোক মনোযোগ সহকারে তাস খেলছে । ওদের মুখে পাতার বিড়ি । এই কামরায় ওরাও একটা বিশেষ আকর্ষণ । ওদের মুখে থাকে বিভিন্ন রকমের  লোকগীতির সুর  , সেই সুরে পরিবেশ আরও মুখরিত হয়ে ওঠে । একটু হাসি, আড্ডা, গান সঙ্গে তাস আর পাতার বিড়ি ---- ২ ঘন্টার পথ অতিক্রম করতে আর কি চাই !!

মহিলাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের ব্যাগ থেকে ফুল বের করছে । কারও হাতে বেলী ,গন্ধরাজ, জবা,গাঁধা কিংবা কারও হাতে পদ্ম । ওদের মধ্যে মালতী নামের একজন  হাতে একটি পদ্মফুল নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে । ব্যাপারটা এরকম - যার হাতে সবচেয়ে ভালো ফুল থাকবে সেই আজকের রাজা , ওদের মধ্যে প্রতিদিনই হয়তো এরকম প্রতিযোগীতা চলে ।

হঠাৎ পায়ে স্পর্শ পেয়ে আমার আনমনে উদাস ভাবটা কেটে গেল । আমি দেখলাম এক বৃদ্ধা মহিলা আমার পা ধরে বসে আছেন । উনি ভিক্ষুক নন। বয়স্ক মানুষ দেহের ভার বহন করতে পারেন না । বসার যায়গা না পেয়ে নিচেই বসে পড়েছেন । বৃদ্ধার মুখের অবয়ব দেখে খুব মায়া হল। উৎকন্ঠার প্রতিচ্ছবি । আমি ওনার দুহাত ধরে আমার সিটে বসিয়ে দিলাম । এই দৃশ্য দেখে অন্যরা আমার দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আমার খুব গর্ব হল, বুকে নেমে এলো প্রশান্তি । কিন্তু নিমিষেই আমার অপরাধবোধ হল - আমি কি এটুকু প্রশান্তির বিনিময়ে বৃদ্ধাকে সাহায্য করেছি । নিজেকে ধিক্কার । মনে হল - মানুষ আসলে নিস্বার্থভাবে কাউকে সাহায্য করতে পারে না ।

হৃদয়পুর স্টেশনে ট্রেনটা থেমে গেলো । এক বৃদ্ধ বাবা তার ১৯ বছর বয়সী এক পঙ্গু ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে ট্রেনে প্রবেশ করল । মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে গেলো । আমার সহযাত্রীরা তাদের কোলাহল, আড্ডা, গান ছেড়ে সবাই ছেলেটির দিকে দৃষ্টিপাত করছে । কেউ একজন ওদেরকে বসার যায়গা ছেড়ে দিয়েছে । ছেলেটির নাম মৃত্যঞ্জয় । মৃত্যুকে জয় করেছে সে । সে কয়েক মাস আগেও এই কামরার যাত্রী ছিল , এখন মাসে একদিন ডাক্তারের নিকট যেতে হয় তার । পাটের মিলের শ্রমিক ছিল সে ; অসাবধানতা বসত মেশিনের মধ্যে হাত চলে যায় তার । মৃত্যুঞ্জয় এর বাবা গভীর উৎকন্ঠার সহিত তার ছেলের শারীরিক খোঁজ খবর সবাইকে  জানাচ্ছেন । এই অসহায় মৃত্যঞ্জয় এর প্রতি সবার যে কত আবেগ কত ভালোবাসা আমি দাঁড়িয়ে থেকে তা প্রত্যক্ষ করেছিলাম । হঠাৎ আমাকে ধাক্কা দিয়ে কে যেন ঐ ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেল । একটু খানি এগিয়ে দেখলাম জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা চুমকি নামের সেই মেয়েটি সবাইকে অতিক্রম করে একটি লাল রঙের জঁবা মৃত্যুঞ্জয়ের সম্মুখে ধরে আছে । মৃত্যঞ্জয়ের হাত নেই । সে ঐ লাল জবার ন্যায় ছলাৎ ছলাৎ চোখে চুমকির দিকে তাকিয়ে আছে । ছোট্ট চুমকির ভালোবাসায় মৃত্যুঞ্জয় এর চোখ থেকে আজ সুখের কান্না ঝরছে.........!!

মনের মধ্যে জীবনের গভীরতম প্রদেশের সুখের দুঃখের গল্পগুলি একে সকাল ৬ : ৩২ মিনিটে শিয়ালদহ প্লাটফর্মে  নেমেছিলাম । আমি দাঁড়িয়ে আছি । পুরো ট্রেনটাকে আমি একবার দেখে নিলাম । আবারও ছুটে গেলাম সেই শেষ কামরার ধারে; জানালার বাহির থেকে তাকিয়ে দেখি ভেতরে কেউ নেই । শূন্য ।
 হৃদয়ের গহীনে ধ্বনিত হতে লাগল রবি ঠাকুরের সেই কবিতাটি  --

      কোথায় আঁলো কোথায় ওরে আঁলো
      বিরহানলে জ্বালো রে তারে জ্বালো
      রয়েছে দ্বীপ না আছে শিখা
      এই কি ভালো ছিল কি লিখা
      ইহার চেয়ে মরন সেযে ভালো
      বিরহানলে প্রদীপখানি জ্বালো ।।

Wednesday, 29 March 2017

বিবাহ বিজ্ঞাপন


শিমুল টিকাদার

আমি আনন্দবাজার পত্রিকা একদম পড়ি না বললেই চলে । কেননা সাদা কে কালো আর কালো কে সাদা বানানো এই পত্রিকার নিত্য-নৈমিত্তিক কাজ । তবে রবিবার এর সংখ্যায় একটা অতিরিক্ত "রবিবাসরীয়" নামক সংখ্যা  থাকে এবং সেখানে ভালো কিছু লেখা থাকে বিধায় সপ্তাহের  এই একটা দিনই এই পত্রিকা সংগ্রহ করি । অন্যদিকে যুগশঙ্খ  পত্রিকার মান যথেষ্ট ভালো কিন্তু সেখানে আন্তর্জাতিক খবর, বিনোদন,  খেলাধুলা ইত্যাদি চর্চার তেমন সুযোগ নেই বলে আমার একঘেঁয়ে লাগে । এসব বিবেচনা করে দ্যা টাইমস অফ ইন্ডিয়া পত্রিকা টা আমি বাড়িতে নিয়মিত রাখি ; এই পত্রিকাটি ঐসব ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট সক্ষম ।

এবার আসল কথায় আসি --
আগেই বলেছি ভালো কিছু লেখা পড়ার লোভে  রবিবার আনন্দবাজার পত্রিকা সংগ্রহ করি । এই সংখ্যার "রবিবাসরীয়" নামক অতিরিক্ত সংখ্যার পৃষ্ঠাগুলোতে খুব উচ্চ  মানের লেখা থাকে তা অস্বীকার করার কোন কারণ নেই । কিন্তু এই "রবিবাসরীয়" সংখ্যার বেশ কয়েকটা পৃষ্ঠা  জুড়ে থাকে বিবাহের বিজ্ঞাপন । আমি সেখানে প্রায়শই চোখ বুলিয়ে নেই । পত্রিকায় বিজ্ঞাপন থাকবেই তাতে কোন সমস্যার কারন নেই ।

কিন্তু আমি এই বিজ্ঞাপনগুলোর লেখা দেখে অবাক হয়ে যাই । ৯৯.৯৯ শতাংশ বিজ্ঞাপনেই দেখি পাত্র বা পাত্রীর  কাস্ট  আগে উঠে আসে । সে হয় ব্রাহ্মণ নয়তো  কায়স্ত । এবং বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয় ব্রাহ্মণ বা কায়স্ত ব্যতিরেকে অন্য কাস্ট হলে বৈবাহিক  সমন্ধ হবে না । আবার মুসলিমদের বৈবাহিক  বিজ্ঞাপনে শিয়া-সুন্নির ভাগও মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায় । এই বিজ্ঞাপন পাতায় নমঃশূদ্র পাত্র-পাত্রীদের বিজ্ঞাপন খুবই কম থাকে ; হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র ।

এখন দেখুন  - বিজ্ঞাপনে এই ঝন্ডাবাহি ব্রাহ্মণ/কায়স্ত পাত্র'-পাত্রীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ থাকে । কেউ ডাক্তার , কেউ  ইঞ্জিনিয়র , কেউবা সরকারের বড়ো কোন আমলা ইত্যাদি ইত্যাদি । এরা নিশ্চয়ই প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রীধারী  - কেউ পড়েছে বিজ্ঞান কেউবা দর্শন । এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিজ্ঞান কিংবা দর্শন কি তাদের  উচ্চবর্ণীয় জাতি পরিচয়ের অহমিকা শিখিয়েছে ? নিশ্চয়ই নয় ।
ভাবতে অবাক লাগে  - এরা দর্শনে এরিস্টাটল  , ডেল কর্নেগী চর্চা করে কিংবা বিজ্ঞানে ডারউইন এর বিবর্তনবাদ পড়ে পরীক্ষার খাতায় পাশ করে নিজেকে শিক্ষিত হিসেবে জাহির করছে ; আবার এদিকে বিবাহের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে এসে জাতের ঝাণ্ডা ধরছে  ।
ছিঃ !! এ যে শিক্ষিত সমাজের লজ্জা  !!

একটা শুদ্রের মেয়ে - ব্রাহ্মণের ছেলে কিংবা
একজন ব্রাহ্মণ পরিবারে মেয়ে - শুদ্রের ছেলে
কি পরস্পরের জীবনসঙ্গী হতে পারে না  ? পাত্র-পাত্রীর  পরস্পরের ইচ্ছা/চাহিদা থাকলে কেন তারা পারবে না । আজকের এই  বিজ্ঞানের যুগে এই অপ্রসাঙ্গিক বর্নীয় সমস্যা/কুসংস্কার/মনের ব্যামো প্রকট আকারে থেকেই গেছে । হাতে গোনা গুটিকয়েক ভিন্ন-মাত্রার উদাহরণ ছাড়া আসলে তেমন ভাবে অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না ।

তবে সব ব্রাহ্মণ/কায়স্ত পরিবার এই ভুলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা আমি বলছি না । তাদের মধ্যে মডার্ন ফ্যামিলিও আছে যারা এই ভুল থেকে বেরিয়ে এসেছে ;  কিন্তু তাদের সংখ্যাটা খুব কম ।

বৈবাহিক সম্পর্ক আমার কাছে শুধুমাত্র সংস্কৃত ভাষায় কয়েক লাইন ভুলভাল উচ্চারণ  আর সামাজিক অনুষ্ঠান সাথে জাত-পাতের বিচার-বিশ্লেষণ নয় । বিবাহ মানে তো পারস্পরিক ভালোলাগার  নিরিখে সারাজীবন একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার। সেখেত্রে প্রিয় মানুষটি যে কোন বর্ণের , যেকোন গোত্রের , যেকোন ধর্মের হতে পারে ।
আর এটাই তো একুশ শতকের "মুক্তচিন্তা" । ভুল বললাম কি  ?

এছাড়াও প্রায়শই শোনা যায় কর্মক্ষেত্রে  - একই পোস্টে চাকুরী করার পরেও নিন্ম-বর্নীয় চাকুরিজীবীদের তাদের সহকর্মী উচ্চ বর্নীয়দের কাছে প্রভুত্বের শিকার হতে হয় ।  উত্তরপ্রদেশের অনেক মন্দিরে নিন্ম-বর্নীয়দের ঢোকার অনুমতি নেই  , স্বামী -স্ত্রী কে নগ্ন করে রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাড় করিয়ে রেখে মজা দেখা হয়  -- এসব ঘটনা  মিডিয়ায় প্রায়শই উঠে আসে ।

এই ঘটনাগুলো বহুকাল ধরে চলে আসছে আমাদের এই ভারতবর্ষে । রাষ্ট্র কে দ্বায়িত্ব নিয়েই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে । এজন্য  শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে । সমাজের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গুনীজন /বিদ্বজন'দের উঠে এসে কথা বলতে হবে । নয়তো নিন্ম-বর্গীয়দের প্রতি এহেন সামাজিক বঞ্চনা কোনদিন দূর হবে না । বরংচ তাদের অনন্ত কালের জন্য বয়ে বেড়াতে হবে মানসিক দাসত্ব ।

আজ আসি । বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর পরিবার কে পিরীলির ব্রাহ্মণ বলা হত কেন  এবং এত নাম যশ অর্থবৃত্ত থাকা সত্ত্বেও  তার পরিবারের সাথে উচ্চ-বর্গীয় সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবার কেন কোন বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না তখন - সেই ঐতিহাসিক গল্প নিয়ে অন্য একদিন হাজির হব । ভালো থাকবেন....!!

আমরা অসমীয় ভাইদের একটি সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায় ; উদ্দেশ্য : সংকট দূরীকরণের মাধ্যমে বাঙালি-অসমীয় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যায়


শিমুল টিকাদার

হৃদয় যাকে ছুঁয়ে যায় পরাজয় যাকে কাঁদায়  - তার নাম মানবতা ।
আর এই মানবতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে একটি মনুষ্য সমাজ  , রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের গনতন্ত্র । ভারতবর্ষ তার গনতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ।

কিন্তু দেশ ভাগের পর পাকিস্তান এমন  একটি অসভ্য-ইতর শ্রেনীর দেশে পরিণত হয় যার আজও নেই কোন মানবতা কেন্দ্রীক সমাজ, নেই কোন গনতন্ত্র । আজকের পাকিস্তান এর গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের অগনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ঠিক পাকিস্তানের আদর্শেই গড়ে উঠেছে  ; যেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের কোন নিরাপত্তা নেই । এদেশের খুন,  গুম , হত্যা, ধর্ষণ,লুণ্ঠন,  নারী নির্যাতনের খবর  সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তা নিশ্চয়ই সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে ।

দেশ ভাগের পর থেকে এই  এ অসহায় মানুষগুলো বেঁচে থাকার তাগিদে ভারতে চলে আসে । বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে ভারতের অসম , ত্রিপুরা এবং পশ্চিম সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গ হয় তাদের জীবনের শেষ ঠিকানা ।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস দেখুন  -
দেশভাগের পূর্বে  এই অসহায় সাধারন মানুষগুলো সবাই কিন্তু একদিন ভারতীয় নাগরিক ছিল ; অথচ দেশ ভাগের সিদ্ধান্ত তাদের মতামত না নিয়েই নেয়া হয়েছিল । যে মূহুর্তে তারা জানতে পেরেছিল এই দেশ ধর্মীয় সমীকরণে   ভাগ হয়ে গেছে অর্থাৎ হিন্দু হওয়ার অপরাধে নিজের দেশে তারা আজ পরবাসী/পরাধীন সেই মূহুর্তে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছিল ।

জনবিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও আদৌ পূর্ব বাংলার হিন্দুদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি । ফলে পাকিস্তানী/বাংলাদেশী  নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে উদ্বাস্তু পরিচয় নিয়েই তাদের ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিতে হয় ।

কিন্তু ভারতে এসে এই উদ্বাস্তু মানুষের দুঃখ-কষ্টের আর সীমা ছিল না । এই অসহায় মানুষগুলোর প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের আচরন ছিল বিমাতৃসুলভ । তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার এই উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করে তাদের জন্য খুলেছিল কয়েক হাজার ক্যাম্প । যেখানে খাদ্য, বস্ত্র , চিকিৎসার অভাবে তারা ধুঁকে ধুঁকে মরতে বসেছিল । এরপরেও কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষ্যান্ত হয়নি  - এই অসহায় মানুষগুলো'কে তারা পাঠায় বর্তমান ছত্তিশগড়  , আন্দামান সহ কয়েকটি প্রদেশে যেখানে তখন ছিল মানুষের বসতি-হীন অর্থাৎ অত্যান্ত দুর্গম অঞ্চল । শেষ পর্যন্ত রোগাক্রান্ত হয়ে  সেখানে হাজার হাজার উদ্বাস্তুদের মৃত্যু হয় । ঐসব অঞ্চল থেকে জীবনের  অর্ধেক খুইয়ে অনেকেই আবার  বেঁচে ফিরেছিল  পশ্চিমবঙ্গে ।

তখন পশ্চিমবঙ্গে সৃষ্টি হয়েছিল অন্য এক কলঙ্কিত ইতিহাস  -
এই উদ্বাস্তুদের মধ্যে কিছু মানুষ ক্যাম্প থেকে ছুটে গিয়েছিল সুন্দরবনস্থ মরিচঝাপিতে । সেখানে তারা ঘর বেঁধে বেঁচে থাকার নতুন সপ্ন দেখেছিল । জঙ্গলের কাঠ কেটে আর মাছ ধরে তারা জীবীকা নির্বাহ করতে শুরু করেছিল । কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়াল পশ্চিমবঙ্গ জ্যোতিবসুর রাজ্য  সরকার । যে সংগঠনগুলো  এই উদ্বাস্তু  মানুষগুলোর নিকটে সাহায্য পৌঁছে দিতে গিয়েছিল তাদের উপর কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল । সেখানের পানীয় কলগুলোকে  সিল করে দেয়া হয়েছিল । এখানেই শেষ নয়  - পুলিশ পাঠিয়ে চালানো হয়েছিল নারকীয় গনহত্যা । বিনা বিচারে মরন-বরন করে নিয়েছিল হাজার হাজার উদ্বাস্তু ।

অবশেষে উদ্বাস্তুদের স্বপ্নের  মরিচঝাপির ইতিহাস মরীচিকায় পরিনত হয়ে সেখানেই ভেঙে গিয়েছিল তাদের বেঁচে থাকার মেরুদন্ড । তখন তারা আবার দণ্ডকারণ্যে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল ।

ঠিক এভাবেই অসম  , পশ্চিমবঙ্গ , ত্রিপুরা  সহ সারা ভারতবর্ষে পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুদের রক্তে রচিত হতে থাকে এক একটি কলঙ্কিত ইতিহাস । এবং আজও তা থেমে নেই ।

সেদিন যখন জানা গিয়েছিল অসমের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রায় ২০০ জন   পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুদের বন্দি করে নির্যাতন  করা হচ্ছে যার মধ্যে প্রায় শতাধিক নারী-শিশু  ; তখন আর্তমানবতার ডাকে অর্থাৎ তাদের উদ্ধার করার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন ডাঃ সুবোধ বিশ্বাস এবং নিখিল.ভারত বাঙালি.উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতি সংগঠনের  অন্যান্য সদস্যবৃন্দ । কিন্তু কিছু দুষ্কৃতীকারী অর্থাৎ তৃতীয় কোন শক্তি ডাঃ সুবোধ বিশ্বাস নেতৃত্বাধীন এই সংগঠন  এবং অসমীয় আসু সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে একটি পরিকল্পিত  দাঙ্গা লাগিয়ে দেয় । যার ফলে বাঙালি-অসমীয়দের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দের সৃষ্টি হয় । ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস মহাশয়ের উপর জারি করা হয় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ।

এই ঘটনায় আমাদের পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা মানবতাবাদী প্রাণ গভীরভাবে চিন্তিত । ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস এবং নিখিল.ভারতের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে অসম সরকার বিনা-বিচারে বিনা-তদন্তে যে প্রশাসনিক হেনস্থার বাতা-বরন তৈরী করেছেন তার জন্য আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন । আমরা অসমের শিক্ষিত সুশীল সমাজের কাছে ইতিমধ্যে বেশ  কয়েকবার শান্তিপূর্ন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার জন্য আহবান জানিয়েছিলাম - কিন্তু এখনও সাড়া না পেয়ে আমরা খুব  মর্মাহত ।
কিন্তু আমরা এখনও আশাহত হইনি । আমরা অসমীয় ভাইদের  একটি সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায় অধীর-আগ্রহে অপেক্ষা করছি ।

কোন একটি ঘটনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমান , যুক্তি  , বিচার-বিশ্লেষণ ইত্যাদি পরিস্ফুটনের মাধ্যমে আমরা যখন কোনো ইতিবাচক  সিদ্ধান্তে আসি এবং কার্যক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করি  -- তার নাম বিবেক ।  অর্থাৎ বিবেক হল একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ।

আমরা বাঙালিরা অসমীয় ভাইদের আবারও একবার আহবান জানাই  -
বর্তমানে অসমীয়-বাঙালিদের মধ্যে যে সংকট চলছে আসুন আমরা উভয় পক্ষ  মিলে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত হয়ে বিবেকের পরিচয় দেই।

আমরা হিংসা চাই না আমরা শান্তি চাই । আমরা বাঙালিরা অসমীয় ভাইদের প্রানে প্রাণ মেলাতে চাই । আমরা নিরপরাধ ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস মহাশয়ের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রত্যাহার সহ নিখিল.ভারতবাঙালি.উদ্বাস্তু সংগঠনের সকল সদস্যবৃন্দের বিরুদ্ধে রুজু  করা মামলা থেকে অব্যাহতি চাই । আমরা চাই অসমীয়-বাঙালিদের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল সৃষ্টি করতে গত ০৬/০৩/২১০৭ ইং তারিখে যে তৃতীয় শক্তির উত্থান হয়েছিল তাদের মুখোশ উন্মোচিত হোক ।

 অসম সরকারের কাছে আমাদের বিনীত নিবেদন এই যে - গত ০৬/০৩/২০১৭ ইং তারিখে অসমীয়-বাঙালিদের মধ্যে যে অসহিষ্ণুর  বাতা-বরন তৈরী হয়েছিল তার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ "তদন্ত কমিশন গঠনে" এগিয়ে আসুন ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ভারতের জন-গন-মন , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর বন্দেমাতরম, মাস্টারদা সূর্য সেনের দেশপ্রেম  আমাদের যেভাবে জাতীয়তাবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করেছে কিংবা ভূপেন হাজারিকা'জীর  "মানুষ মানুষের জন্য " গানটি আমাদের যেভাবে মানবপ্রেম শিখিয়েছে  ঠিক সেভাবেই আসুন আমরা একে অপরের প্রতি সহানুভূতির পরিচয় দেই ।
আমরা ভারতীয় । এই মূহুর্তে অসমে-বাঙালিদের ভারতীয় সত্ত্বার কথা মাথায় রেখে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করে একটি গর্বিত জাতি হিসেবে নিজেদের সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে  বিশ্ব-দরবারে পরিচিত হওয়া একান্ত কাম্য ।

আমরা বাঙালিরা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যায়ে অসমীয় ভাইদের হাতছানি দিয়ে ডাকছি  ; আপনার সাড়া দিন ।

আমাদের ডাকে আপনাদের একটি সবুজ সঙ্কেত'ই আগামী দিনের সুখী-সমৃদ্ধ ভারতবর্ষ তৈরী করতে পারে ।

Sunday, 12 March 2017

আসু ছাত্র সংগঠন এবং অসম সরকারের প্রতি ঐক্যের উদ্বাত্ত্ব আহবান এবং একটি মানবিক আবেদন


     মানুষ মানুষের জন্যে জীবন জীবনের জন্যে
      একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না

প্রখ্যাত অসমীয় সঙ্গীত-শিল্পী ভূপেন হাজারিকা'জীর বাংলায় গাওয়া এই গানটি কোটি বাঙালি হৃদয় কে আজও অনুপ্রাণিত করে । মানুষের দুঃখ-কষ্ট , সামাজিক বঞ্চনা , ক্ষুধার্ত ভিটে-মাটিহীন উদ্বাস্তু মানুষের পাশে সমাজের মানবতাবাদী-সংগ্রামী মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে,  তাদের পক্ষে কথা বলতে হবে -- ভূপেন'জীর  এই গানটি মূলত তারই বার্তা বহন করে ।

ভিন্ন ধর্ম , ভিন্ন সংস্কৃতি , ভিন্ন জাতি অর্থাৎ দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে ভারত ভাগ হয়ে ১৯৪৭ সালে যে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল  - তা কেবলই মাত্র একটি কলঙ্কিত ইতিহাস । দেশ ভাগের পর পাকিস্তানে তৈরী হয় "শত্রু সম্পত্তি আইন" যা বর্তমানে বাংলাদেশে "অর্পিত সম্পত্তি আইন" নামে পরিচিত । এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের বসতবাড়ি এবং চাষের জমি কেড়ে নেয়া হয় । আর হত্যা,  লুণ্ঠন , ধর্ষণ,  ধর্মীয় নিপীড়ন কারও অজানা নয় । পূর্ববঙ্গের তথা বাংলাদেশের এই নিপীড়িত মানুষগুলোই বেঁচে থাকার তাগিদে চলে আসে ভারতে । কিন্তু ভারতে এসে কি তাদের মুক্তি মেলে ? কখনই নয় । প্রতিনিয়ত পুলিশি নির্যাতিত , বসত ভিটে-মাটিহীন দুঃস্থ জীবন , নাগরিক পরিচয় পত্রের অভাব যার জন্য  বিনামূল্যে চিকিৎসা - রেশন মেলে না ইত্যাদি ইত্যাদি কারনে এই বাঙালি উদ্বাস্তুদের জীবনে আজ চরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে । সেদিন যেদিন বৈঠকে যারা এই মানুষগুলোর কথা না ভেবেই ভারত-পাকিস্তান কে ভাগ করে আলাদা আলাদা  স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করতে মরিয়া হয়ে  চুক্তি সই করছিল তারা আজ এই কোটি কোটি উদ্বাস্তু হৃদয়ে এক একজন পরিচিত  কলঙ্কিত ফিগার ।

আক্ষরিক অর্থে বিবেচনা করলে দেখা যায়  - পূর্ব বাংলার হিন্দুদের রক্তের উপর দাড়িয়ে আছে আজকের স্বাধীন সার্বভৌম ভারত ।

ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস এমন একজন "নিবেদিত প্রাণ" যিনি এই দুঃস্থ-অসহায় ভিটে-মাটিহীন মানুষদের অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলেন , তাদের  হয়ে লড়াই করেন । আমরা ইতিমধ্যে সকলেই জানি যে,  গত ০৬/০৩/২০১৭ ইং তারিখে অসমের ধমাজী জেলায় ডাঃ সুবোধ বিশ্বাস মহাশয়ের  নেতৃত্বে ৫০-৬০ হাজার উদ্বাস্তুদের নিয়ে একটি "অধিকার আদায়" ভিত্তিক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । এবং বিশাল ৫-৬ কিলোমিটার রাস্তা বিস্তৃত একটি বিশাল মুক্তি মিছিলের আয়োজন করা হয় । কিন্তু পেছন থেকে কিছু দুষ্কৃতীকারী মিছিলের ওপর নিজেদের আসু ছাত্র সংগঠনের কর্মী  পরিচয় দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় । কিছু সময় পর আতঙ্ক ছড়িয়ে অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে ওঠে । তখন মিছিলের কর্মীদের তুলে নিয়ে আসুর অফিসে মারধর করা হয় । এরপর দু’পক্ষই হামলা-পাল্টা হামলায় লিপ্ত হয় ।

ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস মহাশয় এই সুদীর্ঘ  মিছিলের সামনে থাকায় এই ঘটনাগুলো তিনি ১০ মিনিট পরে জানতে পারেন । কিন্তু যেহেতু তিনি ঐ মিছিলের নেতৃত্বদাতা এবং NIBBUSS  এর চালক সেহেতু তাকেই এই দুর্ঘটনার দ্বায় বহন করতে হয় । অসম প্রশাসন তার বিরুদ্ধে এরেস্ট ওয়ারেন্ট বের করেন এবং আসু কর্মীরা তাকে ওয়ান্টেড ঘোষনা করে বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং করেন । এছাড়াও তারা সুবোধ বিশ্বাস কে অসম সরকার  এবং আসু সংগঠন বিরোধী হিসেবে ঘোষণা করেন । ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে যে অসহিষ্ণু বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল তা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে ।

কিন্তু সুবোধ বিশ্বাস  মহাশয় দীর্ঘদিনের দরিদ্র উদ্বাস্তুদের নিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যে কর্মসূচিগুলো  পালন করেছেন তা পর্যালোচনা এবং বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়  - তার আন্দোলন শুধুমাত্র ভিটে-মাটিহীন উদ্বাস্তু মানুষের পক্ষে যা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং অন্য কোন সংগঠন বিরোধী নয় তো বটেই । আমরা মনে করি এই সম্পূর্ণ ঘটনা বাঙালিদের সাথে ➡ অসম সরকার এবং আসু সংগঠনের ভুল-বোঝাবোঝির কারনে সৃষ্টি হয়েছে ।

এমতাবস্থায় আমরা বাঙালিরা অনতিবিলম্বে ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস বাবুর এরেস্ট ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের দাবি জানাই এবং আসু ছাত্র সংগঠন কে সৌহার্দ্য এর বার্তা দিয়ে বলতে চাই যে আপনারা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন । এবং আপনারা সেই তৃতীয় শক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন যারা বাঙালি.উদ্বাস্তুদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাঙালি-অসমীয়দের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরাতে উদ্যত হয়েছিল  ।

আমরা অসমীয় সুশীল/শিক্ষিত/বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি  - অসমে অবস্থিত আমাদের মানবতাবাদী-সংগ্রামী নেতা ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাস মহাশয়ের প্রান আজ বিপন্ন প্রায় । তাই আপনারা সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসুন , আমাদের সাথে আপনারা কথা বলুন। অসহায় সুবোধ বিশ্বাস  মহাশয় এর পাশে দাড়ান ।
আপনাদের কাছে এটি আমাদের মানবিক আবেদন ।

ভূপেন'জীর ঐ গানটির একটি লাইন  -
পুরানো ইতিহাস ফিরে এলে লজ্জা কি তুমি পাবে না
ও বন্ধু মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্যে

এই গানের ন্যায় আসুন  আমরা উভয়েই যেন এমন কোনো ইতিহাস রচনা না করি যাতে আমাদের ভবিষ্যতে লজ্জা পেতে হয় ।

আমরা অসমীয় সঙ্গীত-শিল্পী  ভূপেন হাজারিকা'কে ভালোবাসি , অসমীয় মানুষদের ভালোবাসি । আমরা আসু ছাত্র সংগঠন এবং অসম সরকারের জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করি ।আমরা এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতে বিশ্বাস করি । অসমের মানুষ আমাদেরই ভাই । আমরা মনে করি অসমীয় এবং বাঙালিদের মধ্যে যে সাময়িক  সংকট চলছে অতি শীঘ্রই তার উত্তরন ঘটিয়ে একে অপরের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে সমগ্র ভারতে দৃষ্টান্ত স্থাপনে সচেষ্ট হব ।

               আমরা অসমীয় ভাইদের সবুজ
                সঙ্কেতের অপেক্ষায় রইলাম  !!


Tuesday, 7 March 2017

অনুকূল ঠাকুরের ব্রহ্মতেজ


পর্ব - ২

সুদর্শন

এবারে দেখাযাক হনুকূল নারীদের কী চোখে দেখতো :

✘ মেয়েদের বৈশিষ্ট্যে আছে -
নিষ্ঠা, ধর্ম, শুশ্রূষা, সেবা, সাহায্য ও প্রজনন (যান্ত্রিক কিন্তু বলা হয় নি) ;
তুমি তোমাদের ঐ বৈশিষ্ট্যের কোনো-কিছুকেই ত্যাগ করিও না ;
ইহা হারাইলে তোমাদের আর কী রইল ?
   (নারীর নীতি, পৃ ৪)

✔ তখনো বোধহয় 'স্বাধীন' ও 'মুক্তমনা' শব্দদ্বয় সৃষ্টি হয়নি ।

✘ যুবতী কন্যার -
যৌবন শেষ ও প্রৌঢ়ত্বের আরম্ভ এমনতর বয়সের বর হওয়াই শ্রেয়ঃ, ....
তাই, শাস্ত্রে আছে -
এরূপ বিবাহ ধর্ম্ম্য অর্থাৎ জীবন ও #বৃদ্ধিপ্রদ।
     (নারীর নীতি, পৃ ৭৬)
✘স্বামী-স্ত্রীর ভিতর অন্ততঃ ১৫-২০ বৎসর বয়সের পার্থক্য থাকা উচিৎ। (না.নী., পৃ ৯২)

✘তুমি যদি তোমার স্বামীকে প্রকৃতই ভালোবাসিয়া থাক তবে তাহার অধীনতাই তোমার মুক্তি ও তৃপ্তি । (না.নী.,পৃ ৯৫)

✔ বিদ্যাসাগরের নাম এনার কোথাও পাবেন না ।

✘ তোমার কোনো ব্যবহারে স্বামী যদি বিরক্ত/দুঃখিত /ক্রুদ্ধ হইয়া ওঠেন তবে ত্রুটি স্বীকার করিয়া দুঃখিত হও।
(না.নী, পৃ ১০২)
✘ শিষ্যা : মেয়ে মানুষ 'বোকা জাত', তাদেরই কি যত দোষ?

ঠাকুর : (কোনো প্রতিবাদ না করে)তোর যদি কখনও মনেও হয় যে, স্বামী তোর সঙ্গে অকারণ দূর্ব্যবহার করছে, তাও বলবি, আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম,সেটি ভাল করে বুঝিয়ে বলতে না পারায় তোমার অশান্তির কারণ হয়েছি (স্ত্রীর কথা বলার বা প্রতিবাদ করার জন্যই সংসার্্ব অশান্তি হয়) ।  ত্র“টি আমারই । এইরকম যদি করতে পারিস তাহলে দেখবি, স্বামীর সব রাগ গলে জল হয়ে যাবে। একটা জায়গায় কেবল স্বামীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারিস, অর্থাৎ যদি দেখিস, স্বামী তাঁর মা-বাবা বা গুরুজনের সঙ্গে অসমীচিন ব্যবহার করছে, সেখানে কখনও কিন্তু স্বামীর পক্ষ সমর্থন করতে যাবি না, শ্বশুর-শাশুড়ীর পক্ষ হয়ে সেখানে ন্যায্য প্রতিবাদ করবি। স্বামীর মঙ্গলের জন্যই এটা করা দরকার। [তথ্যসূত্র: আলোচনা প্রসঙ্গে, ৬ই কার্তিক, শুক্রবার, ১৩৪৯ (ইং ২৩/১০/১৯৪২)]

✔ পরকীয়া বিষয়ক এতটা উদারনৈতিকতা কোথাও দেখিনি । স্বামী মাতলামি, চুরি, রাহাজানি করলেও তার প্রতিবাদ করা যাবে না । জাস্ট 'একটু' বুঝিয়ে বলতে হবে ।

✘ আদর্শপরায়ণ পুরুষই বহুবিবাহের উপযুক্ত । (না.নী, পৃ ১৪৪)

✔ভাইস-ভারসা কোথাও পাবেন না ।

 ✘আজুদিয়া সীতানাথবাবুর বাড়ীতে একদিন এক গৃহমধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর আমাকে বলিলেন- “আপনাকে নির্জ্জনে পেলে একটা কথা বলবো মনে করি, কিন্তু আপনাকে নির্জ্জনে একাকী পাই না। দেখুন, অনেক সময় ভালবেসে আপনাদিগকে চেপে ধরি, কখন বা কাহাকেও কামড়াইয়া দিই। এমন সময় মন এমন স্তরে থাকে যে, স্ত্রী-পুরুষ ভেদাভেদ জ্ঞান থাকে না। একদিন মার (শ্রীশ্রীজননীর) মাথায় (?) কামড়াইয়া দিয়েছিলাম। যখন স্ত্রীলোক আমার কাছে আসে বা স্ত্রীলোকের নিকটে আমাকে যেতে হয় তখন আমাকে সামলে রাখবার জন্য যদি কোন পুরুষলোক উপস্থিত না থাকে, আর আপনি যদি থাকেন তাহলে স্ত্রীলোক দেখে সরে যাবেন না। আমার কাছে থাকবেন (আমাকে বেঁধে রাখবেন) ।প্রতিজ্ঞা করুন।” আমি তাহার কথায় স্বীকৃত হইলাম। আবার বলিলেন- “দেখুন সতীশ গোসঁই-এরও ঐরূপ হয়, তাই সে স্ত্রীলোক দেখে অনেক সময় সঙ্কুচিত হয় না।... তার কিন্তু মাতৃভাব এবং অনেক সময় স্ত্রী-পরুষ জ্ঞান থাকে না।(শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ২৪০)

 তবে শ্রী শ্রী ঠাকুর বিখ্যাত অন্যকারনে। এই ডাইনামিক হিন্দুধর্মে #ইউজেনিক্স নামে ডিনামাইট ঢোকানোর পেটেন্টটি উনার । যারা ইউজেনিক্স নিয়ে পরিচিত নন -তাদের জন্য দুই লাইন জানিয়ে রাখি। এটি একটি খরতরনাক অপবিজ্ঞান যা নিয়ে হিটলার অবসেসড ছিলেন বিশুদ্ধ জার্মান জাতির সৃষ্টিতে। বিবাহে নরনারীর নির্বাচনের বিশুদ্ধতা উৎকৃষ্টতর সন্তানের জন্ম দেয়-এই হচ্ছে উনাদের “বিজ্ঞান সম্মত ” বিশ্বাস !! অনুকুল চক্রবর্ত্তীর অবশ্য হিটলারে ঠাঙারে বাহিনী ছিল না। তাই হিন্দু ধর্মের বর্ণবাদকে আশ্রয় এবং সাশ্রয় করেই উনি, হিন্দু ধর্মে ইউজেনিক্স ঢোকাতে উৎসাহী হোন। উনার দর্শনের মূল থিওরী এই রকম – হিন্দু ধর্মের বর্ণবাদ ভাল! কারন তা বংশ গৌরব এবং বংশ দক্ষতা ( স্কিল) রক্ষা করে! রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষা করে! এই ঠাকুর কোন এক কালে ডাক্তারী পাশ করেছিলেন। কোন বায়োলজি গ্রন্থে শুদ্র রক্তের সাথ ব্রাহ্মন রক্তের পার্থক্যর পরীক্ষালদ্ধ ফল পাওয়া যায়, তা আমাদের কারুর জানা নেই । তবে উনিত আবার ঈশ্বরের সাথে কথা বলতেন-হয়ত কানে কানে ইশ্বর এসে এসব বৈজ্ঞানিক অমৃতবানী উনার কানে ঢেলেছিল! তবে এই বর্ণবাদ টেকাতে এবং উৎকৃষ্ট হিন্দু সন্তান প্রসব করিতে, উনার বিবাহের ফর্মুলা হচ্ছে এই রকম – প্রতিটা হিন্দু পুরুষের দুইটি বিবাহ করা উচিত ! (সৎসঙ্ থেকে যে পত্রিকা বের হয় সেখানে 'পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন' সাঁটানো থাকে যেখানে এর প্রমাণ পাবেন এবং গরীবের ঠাকুরের মাসিকে একটি বিজ্ঞাপন ছাপাতে কত 'মুক্তহস্তে দান' দিতে হয় সেটা শুনলে আপনাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে । মনের মতো (ফুটো)পাত্র পাবার জন্য না-হয় একটা বিজ্ঞাপন দিয়েই কথাটা যাচাই করে নিলেন ! ) প্রথমটা সবর্ণ, পরেরটা অনুলোম অসবর্ণ । অনুলোম অসবর্ণ বিবাহ মানে উচ্চকাস্টের হিন্দু পুরুষের সাথে নিম্ন বর্ণের মহিলার বিবাহ। ব্রাহ্মন পুরুষের সাথে শুদ্রকন্যার বিবাহ। উচ্চবর্নের মহিলার সাথে নিম্ন বর্নের পুরুষের বিবাহে তিনি নারাজ। কারন তার বায়োলজি “গবেষণা” । নিম্নবর্নের স্পার্ম নাকি উচ্চবর্নের ডিম্বানুকে নষ্ট করে। প্রথমত উচ্চবর্নের আর নিম্ন বর্নের লোকেদের স্পার্ম আলাদা হয়-এই অতি মুল্যবান বৈজ্ঞানিক তথ্যর জন্য, উনাকে নোবেল বা নিদেন পক্ষে একটি গোবেল প্রাইজ দেওয়া উচিত ছিল! সর্বর্নে বিবাহটা করার পর কিন্ত আপনি অসবর্ণ বিবাহটা করিবেন! কেন? কারন আপনার সবর্ন স্ত্রীর গর্ভে আসিবে বিশুদ্ধ সন্তান! আর অসবর্ন বিবাহে আসিবে অশুদ্ধ সন্তান! অশুদ্ধ সন্তান কেন? এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে শ্রী শ্রী ঠাকুর বিজ্ঞানে একেবারে “নিরক্ষর ” ছিলেন না । উনার মতে বায়োডাইভারসিটি বাড়াইতে দ্বিতীয় বিবাহটি অসবর্ণ করিতে হইবে! মোদ্দা কথা উনার এই স্বরচিত ” বৈজ্ঞানিক ” ইউজেনিক্স ভারতে খুব বেশী চলে নি-কারণ নেহেরু হিন্দুদের বহুবিবাহ আইন করে রদ করেন । তবে শ্রীঠাকুর, থিওরী অনুয়ায়ী দুটি বিয়ে করেছিলেন। এতে সমাজে বিশুদ্ধ এবং ডাইভার্স সন্তান এসেছিল কিনা আমার জানা নেই – তবে সতীন ও সতীনপুত্রের ঝগড়ায়, তার সৎসঙ্গ আশ্রম উঠে যাবার উপায় হয় একসময়। শিষ্যরাও বিরক্ত হয়েছিল। আমার দাদু তার সন্তানদের ওপর খাপ্পা ছিলেন-এটুকু মনে আছে। (৩) কেও যদি জোকার নায়েকের বৈজ্ঞানিক আবিস্কারে পুলকিত হৌন-তাহলে অনুকুল চক্রবর্ত্তীর বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উদ্ভাবনী শক্তিতে তূরীয় অবস্থা পেতে পারেন! উনার পুনঃজন্মের তত্ত্বটি এখানে হুবহু দিলাম – ।। পুণর্জন্ম কিভাবে হয় ।। “সম্বেগ জীবের বা মানুষের মধ্যে gene-এর (জনির) ভিতর-দিয়ে যে pitch-এ (স্তরে) ওঠে, মরে যাওয়ার সময় psycho-plasm-এ (মানস দেহে) engraved (মুদ্রিত) হ’য়ে থাকে সেই pitch-এ wave-এর (তরঙ্গের) আকারে । মিলনেচ্ছু sperm-এর (শুক্রকীটের) ভিতর সেই জাতীয় সম্বেগ সৃষ্টি হ’লে tunining (সঙ্গতি) হয় এবং মৃত ব্যক্তি পুনরায় শরীর গ্রহণ করার সুযোগ পায় । জন্ম ও মৃত্যুর এটাই revolving process (ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি) ।”

✔উপরোক্ত ঘটনাগুলো কি প্রমাণ করে না যে অনুকূল একজন মানসিক ও যৌন রোগী? যে ব্যক্তি নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তার ভক্তরা কীভাবে বিশ্বাস করবে তাকে ?

আরও অজস্র-গুণান্বিত ঠাকুরের কেচ্ছা শেষ করবো এই সত্য ঘটনাটি দিয়ে, ----

"ব্রহ্মতেজ"
******
ঠাকুর মহাকালের ন্যায় লিঙ্গ সামলাতে না-পেরে একদিন নিজের শালীর সাথে চুপিচুপি অশালীনতায় লিপ্ত হয় । কিছুদিন পর শালী ফলবতী হলে লোককানাকানিতে একটা ত্রাহি ত্রাহি রব পড়ে যায় । এমন চললে ভবিষ্যতে চ্যালারা রেগে অন্ডে তৈলমর্দনের বদলে বিঁচুটি পাতা ঢলে দিতে পারে এই ভয়ে বন্দে-আদর্শপরায়ণ লোকলজ্জায় ধ্যানবন্দী  হয়ে সমাধা খুঁজতে লাগলেন । এমতাবস্থায় তার যোগ্য স্ত্রী ভক্তদের বোঝাতে লাগলেন, "ওরে তোরা আর পাপাচার করিসনে । পতিতের কি সাধ্যি ঠাকুরের লীলা বোঝে !  ওটা ঠাকুরের 'ব্রহ্মতেজ" ।

ওনার সর্বাধিক বিখ্যাত শিষ্য-লেখক শীর্ষেন্দু । বিখ্যাত করার পিছনে 'মিডিয়া ঠাকুরে'র অবদান অনস্বীকার্য। তিনি নাকি একবার মরতে গেছিলেন । সেখান থেকে হনুকূল তাকে নতুন জীবনের দিশা দেয় । দিশার সাথে বাঁশ ফ্রি । নইলে যে কলম থেকে 'ঘুণপোকা' বেরোয় সেই কলমে কীভাবে ঘুণ ধরে যায় ! বাংলা সাহিত্য যাদের কারণে বন্ধ্যাযুগে ফিরে যেতে বসেছে, সেখানে এনার স্থান 'তিনশো নব্বই'টি গন্থ লেখকের পাশেই। এক সাক্ষাৎকারে বাবু বলেছিলেন, "আগে হাতের কাছে যা-ই পেতাম, পড়ে নিতাম । এখন আর পড়া হয়ে ওঠেনা ।" নির্লজ্জের মতো এমন কথা বোধহয় ট্রাম্পও বলবেন না ! এইসব অর্ধেন্দুদের জন্যই বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ ষন্ডের অন্ডের মতো দোদুল্যমান । এত মানুষ মরে, অথচ এসব বিষাক্তকীটের মরণ হয়না ক্যানো ?

 এই কেচ্ছার শেষ করবো আমাদের বাড়ি থেকে ছ'মাইল দূরে আমার বাবার পিসেমশাইয়ের দাদার (আমার সাথে সম্পর্ক দাদু হন)  'পাগল' হয়ে যাবার ঘটনা দিয়ে । দাদুর জন্ম উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারে । পৈতৃক সম্পত্তিও ছিল, ছিল ছোটোখাটো ব্যবসা । স্বভাবে ছিলেন শান্ত ও দানশীল । সেসময়ে ভৃত্যদের সপ্তাহে একদিন ছুটি দিতেন। ... এমন সুখযাপন এক চুদিরভাইয়ের কানে গেল । তারপর তার শিষ্যরা এসে দাদুকে একদিন বললেন, "ঠাকুর তোকে সন্ধান করছে । সে সবাইকে ডাকে না । তুই তার ডাক পেয়েছিস । কালবিলম্ব করিসনে ।"  মূক্ষু মানুষ দু'বার না-ভেবেই তাদের কথা মতো গিয়ে দীক্ষা সেরে নেন এবং সেখানেই সপ্তাহখানেক বর্ণাঢ্য আতিথেয়তা লাভের পর পরম দয়াল তাকে নির্দেশ দ্যান, পরলোক ও পরজন্মের জন্য সমস্ত 'মায়া' ঠাকুরের কাছে বিসর্জন দিতে । ঠাকুরের মুখনিঃসৃত বাণী তিনি মাথায় করে বাড়ি এসে ভিটেবাড়ী-জমিজমা-ব্যবসা বিক্রি করে তাকে দান করার কিছুদিন পর সেখান থেকে বিতাড়িত হন এই শুনে, "তুই ঠাকুরের জন্যে কী করেছিস !" এতবড় আঘাত সইতে না পেরে তিনি সর্বশান্ত হয়ে বাকি জীবন কাটান । অন্তরমহলে ।
( আমি ক্লাস এইটে থাকার সময় সঙ্-পান্ডারা আমার স্বচোক্ষে দুই সিনিয়র নাস্তিক দাদাকে 'বিরিয়ানির লোভ' দেখিয়ে জনসমক্ষে দীক্ষা দ্যায় । যদিও তারা বিরিয়ানি খেয়েই কেটে পড়েছিল ।)
আমি একটি পাড়ার হিসাব দিলাম মাত্র । না জানি কতজনের পাঁচপুরুষের 'মায়া' ঐ বিকৃতমস্তিষ্কের পশুটা অসৎসঙ্গের নামে আত্মসাৎ করেছে !

 আজ আলাসিঙ্গার কাছে বিবেকানন্দের লেখা চিঠি পড়ছিলাম । কিছু অংশ না দিয়ে পারছি না ।
"....এসো, মানুষ হও। প্রথমে দুষ্ট পুরুতগুলোকে (ধর্মগুরু) দূর করে দাও । কারণ এই মস্তিষ্কহীন লোকগুলো কখনো শুধরোবে না । তাদের হৃদয়ের কখনো প্রসার হবে না । শত শত শতাব্দীর কুসংস্কার ও অত্যাচারের ফলে তাদের উদ্ভব; আগে তাদের নির্মূল করো । এসো, মানুষ হও। নিজেদের সঙ্কীর্ণ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে বাইরে গিয়ে দ্যাখো, সব জাতি ক্যামন উন্নতির পথে চলেছে । তোমরা কি মানুষকে ভালবাসো ? তোমরা কি দেশকে ভালবাসো ? তাহলে এসো, আমরা ভালো হবার জন্য - উন্নত হবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করি ।"

 একটি ছোট্ট সংশোধন, ----
'বন্দেপুরুষোত্তমম' কথাটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল । 'পুরুষোত্তম' মানে পুরুষের মধ্যে শ্রেয়, সেখানে আবার  পোঁদে 'উত্তম' জুড়ে দেবার অর্থ কী ? যিনি সক্রেটিস-এ্যারিস্ততল-প্লেটোর মতো 'বান-ই' দেন, যার বাণীছন্দ এই সময়ের শ্রেষ্ঠ ছড়াকারের ন্যায়, তার চোখ এতবড় ভুলকেও এড়িয়ে গেল নাকি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা ?

পুনশ্চঃ - বদরগঞ্জে এক রমণী একদিন নির্জ্জনে বসিয়া নাম করিতেছেন, এমন সময় তাঁহার স্বামী বিদ্রপচ্ছলে তাঁহার পৃষ্টদেশে স্বীয় পদস্পর্শ করিলেন। তখন হঠাৎ কোথা হইতে বহুসংখ্যক মৌমাছি আসিয়া সেই ভদ্রলোকের মুখে দংশন করিয়া অস্থির করিয়া তুলিল। অবশেষে তিনি স্ত্রীর নিকটে ক্ষমা চাহিলে মধুমক্ষিকাগণ তাঁহাকে পরিত্যাগ করিল। (শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা৮৭)  

আমি যে (সব ধর্মের) এত সমালোচনা করি তবে আমাকে কেন মৌমাছি কামড়ায় নি (তবে একবার বোলতা কামড়েছিল) ? নাকি কামড়া-কামড়ি শুধু বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে অসীমত্ব অর্জনের বৃথা চেষ্টা ?

 বি.দ্র. - লেখাটি সম্পূর্ণ আমার নয় । মুখোশ খুলতে আমি শুধু ধর্মগুরুদের মতো জোড়াতালি দিয়েছি । ঋণস্বীকার : দাদা, স্যর (হিন্দু স্কুলের শিক্ষক), ডি সি, মুক্তমনা ও সামহয়ারইন ব্লগ, নন্দন বোস, সুনীল চন্দ্র দাশ ও অন্যান্য ।

Sunday, 5 March 2017

কৃষি-বিজ্ঞানী অনুকূল ঠাকুর এবং অন্যান্য প্র-সঙ্-গ


পর্ব - ১

সুদর্শন 

ঊনবিংশ শতাব্দির শেষ দিকে অবিভক্ত ভারতের উত্তরবঙ্গে পাবনা জেলার
পদ্মাবিধৌত অখ্যাত হিমাইতপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পরিবারে যে শিশুটি জন্মেছিলেন, তিনি এক
কথায় অনবদ্য। যিনি পরবর্তীকালে আপন প্রজ্ঞায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের গুরুরূপে পূঁজিত হয়েছিলেন,
তিনি বিংশ শতাব্দির জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রাণের দেবতা-বিজ্ঞানী শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকুল চন্দ্র। এমন বিজ্ঞানী দেবতার সম্বন্ধে আমার মত অধম কোন কিছু লিখতে যাওয়া বাতুলতা মাত্র। এ যেন অন্ধের হস্তীদর্মন। কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ, কোনটা লিখব, কোনটা লিখব
না, কোথা থেকে শুরু করব, কোথায় গিয়ে শেষ করব সব মিলিয়ে দিক-বিদিক জ্ঞান 
হারিয়ে ফেলি। তবুও পরম দয়াময়, করুণাময়, কৃপাসিন্ধুর আশীষ মাথায়
নিয়ে শুরু করলাম। 
>>>
আমরা পূর্ববর্তী সকল মহামতি অবতারগণকে দেখেছি তাঁরা খুব সাধন-ভজন-তপস্যা করে বাহ্যদশা, অর্দ্ধ-বাহ্যদশা ও অন্তর্দশার মাধ্যমে লোকচক্ষে অবতারের পরিচয় দিয়েছেন।
কিন্তু ভাবাবস্থায় তাঁদের মুখ থেকে কোন বাণী নির্গত হয় নাই। পরম দয়াল
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র যেন এঁদের থেকে ভিন্ন। ভাবসমাধি অবস্থায় তাঁর
(?)শ্রীমুখ দিয়ে অনর্গলভাবে বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য বাণী তড়িৎ গতিতে নির্গত হত (যা লিপিবদ্ধ করার সূত্র পিটম্যানও আবিষ্কার করে যেতে পারেননি) । তার মধ্যে
শুধুমাত্র ৭১ দিনের বাংলা ও কিছু ইংরেজী বাণীগুলো দিয়ে “পূণ্য পুঁথি” নামে
একটি মহাগ্রন্থ তৈরী হয়েছে।

এর শিষ্যদের মধ্যে এক অদ্ভুত আচার দেখা যায়। এরা হাগতে গেলেও এক পয়সা গুরুর নামে একটা ভাঁড়ে জমা দিয়ে হাগতে বসে ! এটি ছিঃ ছিঃ ঠাকুরে দীক্ষিত শিষ্যদের অবশ্য কর্তব্য - সর্বদা গুরুকে স্মরণ করিবে ! হাগতে গেলেও করিবে ! কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে আমাশায় সর্বত্র গুরুকে স্বরণ করা এই কূলের ( যা সৎসঙ্গ) নিয়ম ! গুরু ঠাকুরকে এক পয়সা ভাঁড়ে দিলে , উনি কোষ্টকাঠিন্যে পায়খানা তরল করিবেন, আমাশায় আঁটি বাঁধিবেন ! অহ ! এমন জগৎগুরুর শিষ্যরাই জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে ! সারা ভারত থেকে মহাভীতি কাটানোর জন্য প্রতি মাসে কয়েকশো কোটি ইষ্টভৃতি বিনে ট্যাক্সে দেওঘর চলে যাচ্ছে । এই পদ্ধতিটা মোদিজী আয়ত্তে আনতে পারলে সাধারণ মানুষকে কি আর ডিমনিটাইজেশনের ফল ভোগ করতে হত? 
"এই দান লইয়া কী করিবেন আপনারা ?" - জিগাইলে এদের উত্তরও রেডি । "একবার দেওঘরে গিয়ে দেখুন। সব পরিস্কার হয়ে যাবে ।" আপনি যদি হাওড়া হয়ে দেওঘর যান তবে হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়েই আপনি হনুর একটি পোস্টার দেখতে পাবেন, যেখানে একটি বাণীতে লেখা আছে এরকম, "ভারতবর্ষের সেদিন থেকে পতন হয়েছে, যেদিন থেকে ভারতবর্ষের মানুষ তাদের মুনি-ঋষিদের কথা অবজ্ঞা করতে শুরু করেছে ।" মুনি-ঋষি বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে সেটা পাঠক টের পেয়েছেন নিশ্চয়ই। 

যাই হোক, শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাবাদর্শের মূলকথা হল
অস্তিত্ববাদ। সব বাদের সেরা বাদ ও পরিপূরক এবং যেমন ভাবে নুকূর শিষ্যরা প্রচার করেন যে নুকূর 'বাণী'র সাথে প্লেটো-এ্যারিস্ততলের 'কথা'র মিল আছে তারা এবার বলবেন অনুকূলাপ্রাণিত হয়েই সাত্রোঁ লিখেছেন "Being & Nothingness" । 

সত্তাবাদের মূল সুর
হল-“মরো না, মেরো না, পারতো মৃত্যুকে অবলুপ্ত কর”। 

✘ একবার রাতুলপাড়ার শ্রীযুক্ত শ্রীকান্ত সরকার- মহাশয় ভয়ানক পীড়িতাবস্থায় সপরিবারে কুষ্টিয়াতে রহিয়াছেন। গুরুভ্রাতাগণ প্রাণেপণে যত্ন, শুশ্রূষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়াছেন। বড়-বড় এম-বি, এল-এম-এস ডাক্তারগণ রোগীর জীবনের কোন আশা নাই বলিয়া জবাব দিয়াছেন। হোমিওপ্যাথিক মতে চিকিৎসা করিয়া আমিও কৃতকার্য্য হইতে পারিলাম না। রাত্রে মোক্তারবাবু বীরেন্দ্রনাথ রায় ও আমার কম্পাউণ্ডার শ্রীমান্ উপেন্দ্রনাথ দে রোগীর শুশ্রূষা ও প্রহরায় নিযুক্ত হইলেন। তাঁহারা খুব নাম নাম করিতেছেন ( এই সত্যনাম)। নিশীথকালে শ্রীকান্তের প্রাণপক্ষী দেহপিঞ্জর পরিত্যাগ করিল। এত রাত্রে প্রকাশ করা উচিত নয় বিবেচনায় তাঁহারা চুক করিয়া রহিলেন। পরে তাঁহারা পরামর্শ করিলেন যে, এই সত্যনামে অনেক মুমূর্ষু এবং মৃতব্যক্তি বাঁচিয়া গিয়াছে। ইহাকে নাম দ্বারা চেষ্ঠা করিয়া দেখিলে হয়। এই বলিয়া তাঁহারা প্রাণপণে নাম করিতে লাগিলেন এবং তাঁহার মুখে একটু চরণামৃত ঢালিয়া দিলেন। রজনী প্রভাত হইবার সঙ্গে-সঙ্গে শ্রীকান্ত আবার বাঁচিয়া উঠিলেন। আনন্দের আর সীমা নাই। সকলেরই যেন স্বপ্নবৎ বোধ হইতে লাগিল।(শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র - সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ৯১) 

✘ আরেকবার হিমাইতপুরের দেবীদাস চৌধুরী মহাশয়ের পুত্র শ্রীযুক্ত হেমচন্দ্র চৌধুরী মহাশয় শয্যাগত পীড়িত। রোগযন্ত্রণায় ছটফট করিতেছেন। আমি তাঁহাকে দেখিতে গেলাম। তিনি বলিলেন- “দাদা, বড় যন্ত্রণা, কিন্তু বড় আশ্চর্য্য কথা, যখনই আমি ঠাকুরের প্রচারিত নাম করি তখনই আমার রোগযন্ত্রণার কিঞ্চিত উমশম বোধ হয়; আমি একটু শান্তি পাই। কিন্তু আমি পূর্ব্ব থেকে যে সমস্ত নাম ক’রে থাকি, তাতে কোন উপকার পাই না কেন, কিছুই বুঝতে পারি না। আবার, সে-সকল নাম ছাড়তেও প্রাণ চায় না, তাই সেই নাম করি, কিন্তু তাতে রোগযন্ত্রণার কোন উপশম হয় না, তখন পরীক্ষা করতে গিযে ঠাকুরের নাম করি, অমনি যন্ত্রণার কিছু উপশম হয়, কিছু শান্তি বোধ হয়। এইরূপ আজ তিনদিন অনেকবার পরীক্ষা ক’রে বুঝলাম-ঠাকুরের নামই সর্বশ্রেষ্ট শক্তিমান নাম বটে। প্রথম মনে করেছিলাম, আমার মা ঐ সত্যনাম করেন তাই তাইতে বোধহয় আমার মনের এই অবস্থা, কিন্তু বাস্তবিক পরীক্ষা ক’রে দেখলাম তা’ নয়, ঐ নামের খুব শক্তি বটে।’’ আমি তাঁহার মন পরীক্ষা করিবার জন্য বলিলাম- “যদি এ –কথা সত্য হয় তবে এই ঘটনা সত্য ব’লে নাম-স্বক্ষর ক’রে দিন।’’ তিনি অম্লানবদনে সন্তোষ- সহকারে তাহাই করিলেন। (শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ৮৬) 

✔ যুধিষ্ঠিরের ঘটে এতটুকু বুদ্ধি ছিলো না !

✔এক মহাত্মা তো নিজের 'মন কি বাত' গোপন রাখতে না পেরে বলেই ফেলেছিলেন, "পূর্ববঙ্গের এক স্বীয়প্রচারিত ভগবানও নিজের ভক্তদের নয়, নিজেই দাঙ্গার সময় মোল্লাদের হাত থেকে 'মৃত্যুকে অবলুপ্ত করতে না পেরে' দেওঘরে পালিয়ে এসেছিলেন।" 

✘ অনেক স্থান হইতে অনেক ভদ্রাভদ্র পুরুষ-রমণী যাঁহারা কখনও তাঁহাকে দর্শন করেন নাই বা তাঁহার নাম-ধাম অথবা তাঁহার বিষয় কিছুই পূর্ব্বে শ্রবণ করেন নাই তাঁহারাও স্বপ্নযোগে শ্রীশ্রীঠাকুরকে দর্শন এবং তাঁহার প্রচারিত সাধন- প্রণালীর দীক্ষাপ্রাপ্ত হইয়াছেন এবং ইনিই তাঁহাদের একমাত্র আরাধ্য পরমপুরুষ বলিয়া জানিতে পারিয়াছেন। এইরূপ স্বপ্নদর্শনে অনেকে আকুল প্রাণে ছুটিয়া আসিয়া তাঁহার চরণে লুটিয়া পড়িতেছেন। (শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ৭১) 

✔ কাহিনীর কোন বাস্তব ভিত্তি আছে? সাইদী যেভাবে টাকার বিনিময়ে তথাকথিত নিন্মবর্গের হিন্দুদের ও বৌদ্ধদের মুসলমান বানাত সেই কাহিনীর মত হয়ে গেল না? আর তিনি কেন গুটি কয়েক মানুষকে স্বপ্নে দীক্ষা দিলেন? সবাইকে কেন এভাবে দীক্ষা দিলেন না? নাকি সাইদীর মত টাকার বিনিময়ে মানুষ এইসব কাহিনী ছড়াত ? কাহিনীটা অনেকটা মোহাম্মদের শিষ্যদের সাথে মিলে যায় । 

✘অন্যান্য বালকদিগের দেখাদেখি ও কাহারও অনুরোধে(?) একদিন বালক পদ্মানদীতে ছিপে মৎস ধরিতে গিয়াছিলেন। তাঁহার ছিপে একটা বড় মাছ ধরিল। মাছ ধরা পড়িয়া কষ্ট পাইল বা মরিয়া যাইবে মনে করিয়া তিনি কাঁদিয়া আকুল হইলেন। মাছ ছাড়াইয়া বাঁচাইয়া দিবার জন্য উপস্থিত লোকদিগকে সকাতরে অনুরোধ করিতে লাগিলেন। তখন তাহারা মাছটি ছাড়াইয়া জলে ছাড়িয়া দিলে শান্ত হইলেন। আর কখনও সে-কার্য্য করেন নাই। (শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা৪২) 

✔অনুকূল ভক্তরা দাবি করেন, তাদের গুরু ভগবান এবং তিনি মানুষরূপে এসেছেন পাপীদের উদ্ধার করতে ! তার প্রতিটি বাণীতে নাকি জ্ঞান ঝরে পড়ে ! আচ্ছা এত জ্ঞানী গুণী মানুষ অথচ মাছ ধরার আগে কি মনে ছিল না যে ছিপ দিয়ে ধরলে মাছটি ব্যাথা পাবে? 

✘একদিন বলিলেন- “পূর্ব্বে মাছও খেয়েছি কিন্তু তাতে সাধনার ফল ভাল হয় নাই। তাই লোককে মাছ-মাংস খেতে নিষেধ করি। মাছ-মাংস খেলে ধ্যানের জ্যোতিঃ স্পষ্ট দেখা যায় না, ধোঁয়া দেখা যায়। স্মৃতিশক্তির বিঘ্ন হয়। স্ফূর্ত্তির হানি হয়। আমি দেখতাম-আমিষ খেলে আমার স্মৃতিশক্তি কম হ’ত। আমিষ খাওয়ার ফলে স্বপ্নে ও ধ্যানে দুষ্ট-বিষয় ঠিক- ঠিক মনে থাকে না। আমিষে রিপুর উত্তেজনা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। স্তত্ত্বিক- আহারে মানুষ দীর্ঘায়ু হয়। সাত্ত্বিক- আহারে মানুষ দীর্ঘায়ু হয়।’’ (শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ৭২) 

✔আমিষ খেলে যদি আয়ু কমে তবে, ভারতে ৪২% নিরামিষভোজী থাকা স্বত্তেও কেন আমিষভোজী আমেরিকানদের গড় আয়ু ভারতীয়দের চাইতে বেশী? প্রায় অর্ধেক নিরামিষভোজী ভারতীয়দের গড় আয়ু ৬৬.২১ বছর! আর মাংসাশী আমেরিকানদের গড় আয়ু ৭৮.৭৪ বছর ! 
http://matadornetwork.com/trips/5-best-countries-world-vegetarians/?single=1 

বাটীর ভৃত্য কোন দূরবর্ত্তী স্থান হইতে কতকগুলি নারিকেল মস্তকে বহন করিয়া আনিতেছিল। পথিমধ্যে তাহার বড় কষ্ট হেইতেছে দেখিয়া বালক নিজসম্তকে নারিকেলের বোঝা বহন করিতে লাগিলেন। কিছুদূর গমন করতঃ ক্লান্ত হইয়া বলিলেন- “আর তো পারি না”।এমন সময় তিনি দেখিলেন, শ্রী শ্রী কালীমাতা তাঁহার বোঝা মস্তক উচ্চ করিয়া বহন করতঃ লইয়া যাইতেন। (শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ৪১) 

✔এই ঘটনার বাস্তব কোন ভিত্তি আছে? ঘটনাটি কে দেখেছে তা কিন্তু লেখক উল্লেখ করেন নি ! যদি ঠাকুরই হবে তবে বোঝা বহনে আবার কষ্ট কী ! আর এক ব্রাহ্মণ ভগবান কীভাবে অনার্য দেবী 'কালী'র সাহায্য নিল ?

✘ উক্ত শ্রীশবাবুর( শ্রীশচন্দ্র নন্দী) স্ত্রীর উদরাভ্যস্তরে আব(tumour) হইয়াছিল। ডাক্তারগণ বলিলেন- রোগ দুরারোগ্য। একদিন আকস্মিক ঘটনাবশতঃ তাঁহার ছোট কন্যার পদাঘাত লাগিয়া সেই টিউমার পেটের মধ্যেই ফাটিয়া গেল। তখন আরও ভয়ঙ্কর কাণ্ড হইয়া পড়িল। তাহাতে রোগীর পেরিটোনাইটিস্ নামক সাংঘাতিক ব্যাধি উপস্থিত হইল। তিনি মৃতপ্রায় হইয়া পড়িলেন। বড়-বড় ডাক্তার বলিলেন- “বাঁচিবার কোন আশা নাই।” সেই রাত্রেই মৃত্যু নিশ্চই স্থির হইল। শ্রীবাবুর স্ত্রীর জীবনলাভের উদ্দেশ্যে অনন্যোপায় হইয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট প্রার্থনা-সহকারে সাধ্যানুসারে সত্যনাম করিতে লাগিলেন্ কি অদ্ভুত ব্যাপার! সেই রাত্রি হইতেই রোগী সুস্থ হইতে আরম্ভ করিয়া অত্যল্পকাল মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হইলেন। ল(শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ৮৯) 
✘ আরেকবার রাতুলপাড়ার শ্রীযুক্ত শ্রীকান্ত সরকার- মহাশয় ভয়ানক পীড়িতাবস্থায় সপরিবারে কুষ্টিয়াতে রহিয়াছেন। গুরুভ্রাতাগণ প্রাণেপণে যত্ন, শুশ্রূষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়াছেন। বড়-বড় এম-বি, এল-এম-এস ডাক্তারগণ রোগীর জীবনের কোন আশা নাই বলিয়া জবাব দিয়াছেন। হোমিওপ্যাথিক মতে চিকিৎসা করিয়া আমিও কৃতকার্য্য হইতে পারিলাম না। রাত্রে মোক্তারবাবু বীরেন্দ্রনাথ রায় ও আমার কম্পাউণ্ডার শ্রীমান্ উপেন্দ্রনাথ দে রোগীর শুশ্রূষা ও প্রহরায় নিযুক্ত হইলেন। তাঁহারা খুব নাম নাম করিতেছেন ( এই সত্যনাম)। নিশীথকালে শ্রীকান্তের প্রাণপক্ষী দেহপিঞ্জর পরিত্যাগ করিল। এত রাত্রে প্রকাশ করা উচিত নয় বিবেচনায় তাঁহারা চুক করিয়া রহিলেন। পরে তাঁহারা পরামর্শ করিলেন যে, এই সত্যনামে অনেক মুমূর্ষু এবং মৃতব্যক্তি বাঁচিয়া গিয়াছে। ইহাকে নাম দ্বারা চেষ্ঠা করিয়া দেখিলে হয়। এই বলিয়া তাঁহারা প্রাণপণে নাম করিতে লাগিলেন এবং তাঁহার মুখে একটু চরণামৃত ঢালিয়া দিলেন। রজনী প্রভাত হইবার সঙ্গে-সঙ্গে শ্রীকান্ত আবার বাঁচিয়া উঠিলেন। আনন্দের আর সীমা নাই। সকলেরই যেন স্বপ্নবৎ বোধ হইতে লাগিল।(শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ৯১) 

✔ যদি সত্যনামে রোগ ভাল হয়ে যেত তবে অনুকূল ঠাকুর নিজে কেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন? আর নিজের ছোট ছেলেকে কেন ডাক্তারি পড়িয়েছিলেন? কেউ রোগাক্রান্ত হয়ে আসলে তিনি তাঁদের ওষুধের বদলে সত্যনাম দিলেই পারতেন! রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভারতের সরকারের হাসপাতাল ও ডাক্তারদের পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হত না ! আমেরিকা থেকে ওষুধ আমদানির বদলে সত্যনাম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হত ! তাই নয় কি ? দিলীপ বাবু এই নীতি শিখলে নিন্দুকদের মুখ লুকানোর জায়গা থাকবে না ।

✘কখন-কখন তাঁহাকে ভোজন করাইবার জন্য সুন্দর আসন পাতিয়া দেওয়া হইলে এবং তাঁহার সম্মুখে নানাপ্রকার চর্ব্ব- চূষ্য-লেহ্য-পেয় সামগ্রী সুসজ্জিত করিয়া দেওয়া হইলে তিনি সেই সমস্ত জিনিস দেখিয়া বিষণ্ন হইয়া অশ্রুপাত করতঃবলিয়াছেন- ‘হায়!হায়! তোমরা আমাকে ঠাকুর করেছ, আমি ছিলাম একটি বামুনের ছেলে, পরে হলেম ডাক্তারবাবু, আবার এখন তোমরা আমাকে বল ঠাকুর, আর আমার জন্য এত বহুমূল্য সুন্দর খাদ্যদ্রব্য থরে-থরে সাজিয়ে ুদয়েছ। তোমাদের কত গরীব ভাই কত স্থানে একমুষ্টি চাউলের অভাবে কত কষ্ট পাচ্ছে তা’ তো তোমরা দেখছ না।” (শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা – ১০৩)

✔ যার নামের গুণে মৃত মানুষ জীবিত হয়ে যায় তার ভক্তরা কেন না খেয়ে মরবে ? শুধু নামযপ করলেই ভারত 'হাঙ্গার ইন্ডেক্সে' শীর্ষস্থানে থাকতো !

✘ কলিকাতার ৭নং দীনবন্ধু লেন-এর শ্রীযুক্ত বাবু আশুতোষ ঘোষ, বি-এ, বি-এল, মহাশয় কুচবিহারের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট (নায়েব আহেলকার)। তিনি বিখ্যাত মহাপুরুষ স্বর্গত ঠাকুরদাস
বাবাজীর শিষ্য। নানকপন্থী। শ্রীশ্রীঠাকুরকে দর্শন করত এবং এই সত্যনাম সাধন-প্রণালী অবগত হইয়া বিশেষ সন্তোষলাভ করিয়াছেন। তিনি পুনরায় এই সত্যনামে দীক্ষিত হইবেন স্থির করিয়াছেন। কিন্তু মনে সময়ে-সময়ে একটু সন্দেহ আসিতেছে। গত ৬ই অগ্রহায়ণ রাত্রে তাঁহার নিদ্রা ভঙ্গ হইল।তখন তাঁহার অর্দ্ধনিদ্রা, অর্দ্ধজাগরণবৎ অবস্থা তিনি স্পষ্ট শ্রবণ করিলেন-তাঁহার স্বর্গীয় গুরুদেব
বলিতেছেন- “আমার মন্ত্র ফিরিয়ে দিলে আক্ষেপ নাই। যে-পথ অবলম্বন ক’রতে যাচ্ছ-তা বেশ। তাতেই মঙ্গল হবে।” এই ঘটনার পরেই তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের এই সত্যনামেই দীক্ষিত হইয়াছিলেন।(শ্রী শ্রী
ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা১৫৩)

✔ ঠাকুরের বাণীতে আছে নিজ গুরু ছাড়ার মত
ঘৃণ্য কাজ আর নাই ! যারা নিজ গুরু ছাড়ে তাদের ইহ ও পরজগৎ কোথাও ঠাঁই নাই! কোরানে বর্ণিত আছে, ইসলাম ত্যাগ করলে তার জন্য থাকবে দোজখের আগুন । নুকূ ভক্তরা কী বলছেন ?

অনুকূলের ভূত
""""""""""""

✘কুষ্টিয়ার এক গ্রামে এক বাড়ীতে ভূতের উপদ্রব হয়। ঘরে তালাচাবি বন্ধ করিয়া রাখিলে আপনা-আপনি সে তালাচাবি খুলিয়া যায়। নানারূপ চেষ্টা করিয়াও তাহার কোন প্রতিকার হইল না। রাম-নামে ভূত পলায়ন করে, এই ধারণায় সেই ঘরের দরজায় রাম-নাম লিখিয়া দেওয়া হইল। তাহাতে কোন ফল হইল না। পরে কৃষ্ণ-কালী-দুর্গানাম লিখিয়া দেওয়া হইল। কোন ফল হইল না। অবশেষে শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রদত্ত সত্যনাম কাগজে লিখিয়া সেই দরজায় আঁটিয়া দিলে তাহার পরক্ষণ হইতেই সেই ভূতের উপদ্রব বন্ধ হইয়া গেল।(শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ১৯২)

✔তার মানে অনুকূল ঠাকুরের দেওয়া নাম ছাড়া বাকি সব নামের কোন কার্যকারিতা নেই! তার মানে এতদিন ধরে যারা হরি, কৃষ্ণ,কালী নাম নিয়েছে তাদের কোন উপকার হয়নি? এব্যপারে অনুকূল ভক্ত ছাড়া বাদবাকি হিন্দুরা কি বলবেন? 

✘কলিকাতা মাণিকতলা শ্রীযুক্ত বাবু গৌরচন্দ্র নন্দী-মহাশয়ের আপার সার্কুলার রোডের বাটীতে প্রায় তিন বৎসর পূর্ব্বে একজন পৌঢ়া রমণীর ভূতাবেশ হয়। লোককে ভূতে ধরিলে যেরূপ ব্যবহার ও কথাবর্ত্তার গল্প শুনিতে পাওয়া যায় তিনি সেইরূপ করিতেন। নানারূপ চিকিৎসা ও ভূতুড়ে চিকিৎসা অবলম্বন সত্ত্বেও কোন ফল হইল না। ভুবনচন্দ্র নাথ নামক একটি পূর্ব্ববঙ্গবাসী বালক সেই বাড়ীতে থকিয়া কলেজে অধ্যয়ন করিত। সে একদিন শ্রীশ্রীঠাকুরের একখানা ফটো আনিয়া ঐ ভূতাবিষ্ট ব্যক্তিকে দেখাইলে তিনি বিকট চীৎকার করিতে-করিতে বলিতে লাগিলেন- “ও কার চেহারা, ওটা শীগগির সরিয়ে ফেল, ওটি আমি দেখতে পারব না, দেখলে আমার বড় ভয় হয়। আমি এখনি তোমাদের বাড়ী থেকে যাচ্ছি।” যে-ঘরের দরজায় ঐ ফটো রাখা হইত সে-ঘরে এ- রমণী যাইতে পারিতেন না। ১৪৮নং মানিকতলা রোডের ওরিয়েন্টাল মেডিকেল স্টোর নামক ডাক্তারখানার মালিক শ্রীযুক্ত বাবু নগেন্দ্রনাথ ঘোষাল মহাশয় সেই ফটোখানি দিয়াছিলেন। তিনি তাঁহার ফটো লইয়া যাইবার পর ঐ স্ত্রীলোকটির পুনরায় ভূতাবেশ হইল। তখন তাঁহার একখানা ফটো কিনিয়া ঘরে রাখিয়া দিলে ভূত ছাড়িয়া গেল, আর আসিল না।(শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা ১৯২) 

✔এখন থেকে সব দেবতা বাদ! অনুকূল ঠাকুর জিন্দাবাদ ! 

✘হিমাইতপুর গ্রামে এক সময়ে খুব কলেরা হইতেছিল। শ্রীশ্রীঠাকুর রত্রিকালে রাস্তায় গমন করিতে-করিতে দেখিলেন যেন একটি স্ত্রীমূর্ত্তি তাঁহার সম্মুখ দিয়া যাইতেছে। তিনি তাহার দিকে মনোযোগ দিবামাত্র তাঁহার ললাট হইতে একটি উজ্জল আলো ছুটিয়া ঐ স্ত্রী- মূর্ত্তির দিকে গেল। মূর্ত্তি খুব বেগে দৌড়াইতে লাগিল। আলোটিও তাহার পশ্চাদ্ধান করিতে থাকিল। পরে সেই স্ত্রীমূর্ত্তি আকাশে উঠিয়া শূন্যমার্গে চলিতে লাগিল, আলোটিও তাহার পশ্চাদনুসরণ করিতে লাগিল। শেষে ৫/৬ মাইল দূরে ঠিক যেন দোগাছি গ্রামে স্ত্রীমূর্ত্তিটি অবতীর্ণ হইল।আলোটি ফিরিয়া আসিল। পরদিনই হিমাইতপুরের কলেরা বন্ধ হইল এবং দোগাছিতে কলেরা আরম্ভ হইল।(শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র- সতীশচন্দ্র জোয়ারদার পৃষ্টা১৯৩)

✔অনুকূল ঠাকুরের একটি বাণী আছে, 

বুদ্ধ ঈশায় বিভেদ করিস
শ্রীচৈতন্যে রসুল কৃষ্ঞে জীবোদ্ধারে হন আবির্ভাব
একই ওঁরা তাও জানিস নে?

তা অনুকূল ঠাকুর কলেরা থেকে নিজের গ্রামের মানুষদের উদ্ধার করলেন কিন্তু পাশের গ্রামের মানুষদের উদ্ধার করলেন না কেন? যে ব্যাক্তি একদল লোককে বাঁচাতে গিয়ে অন্যদল লোককে মেরে ফেলে তার সততা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় ! নাকি বাকিদের উদ্ধার করতে নতুন কেউ(বন্দে বন্দে পুরুষোত্তম) আবির্ভাব হবেন নতুন কোন সত্যনাম নিয়ে ! 

বিজেপির ভোটের রাজনীতি আর মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবনা - শিমুল টিকাদার

লিখেছেন : শিমুল টিকাদার আমরা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ । আমাদের সম্প্রদায়ের বড়ো একটি অংশ অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষ...